ই. গোপী ও কিরণ মান্না: ভয়াবহ আগুন কেড়েছে প্রাণ। কলকাতার আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু পিংলার তিন যুবকের। দেহ শনাক্তকরণে করা হচ্ছে DNA পরীক্ষা। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামে। আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকের মালিগেড়িয়া এলাকার তিন যুবকের। একই গ্রামের তিনজনের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সূত্রের খবর, আগুনের তীব্রতায় নিহতদের দেহ এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে প্রাথমিকভাবে মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই DNA পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যেই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— কৃষ্ণেন্দু ধাড়া (৩০), অনুপ প্রধান (২৯) ও বিশ্বজিৎ সাউ (২৫)। কৃষ্ণেন্দু ধাড়ার স্ত্রী ও ৯ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। । অনুপ প্রধানের স্ত্রী এবং দেড় বছরের একটি শিশু রয়েছে। বিশ্বজিৎ সাউ অবিবাহিত।
জানা গিয়েছে, তিনজনেই ফুলের কাজে কয়েকদিন আগে আনন্দপুরে গিয়েছিলেন। আজ অথবা আগামিকালই তাঁদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই ফেরা আর হল না। তার আগেই বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। প্রিয়জনদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে দিশেহারা পরিবারগুলি। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীরা।
ওদিকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা পার! এখনও নিখোঁজ তমলুকের নীলকুণ্ঠী গ্রামের বিমল মাইতি। রবিবার গভীর রাতে আগুন লাগে আনন্দপুরের একটি কারখানায়। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কার্যত জতুগৃহে পরিণত হয় কারখানাটি। সেই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের মোট ১৩ জন এখন অবধি নিখোঁজ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সেই নিখোঁজদের দলেই রয়েছেন নন্দকুমারের বরগোদার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতি।
এই সন্দীপ মাইতির হাত ধরেই প্রায় ১২ বছর আগে নীলকুণ্ঠীর বিমল মাইতি ওই কারখানায় লেবার হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলে। আগুন লাগার ঘটনার পর থেকে সন্দীপ মাইতির পাশাপাশি বিমল মাইতিও এখনও নিখোঁজ। পরিবারের লোক ঘটনাস্থলে গিয়েও কোনও সুরাহা করতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার। চোখের জলে বাড়ির ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার আর্তি পরিবারের। তাদের দাবি তাদের ছেলেকে প্রশাসন ফিরিয়ে আনুক।