• ‘যদি মরতে ইচ্ছে হয়, তবে আবার যাব’, আনন্দপুরের ভয়াবহ স্মৃতি তাড়া করছে সুজিতদের
    এই সময় | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • আনন্দপুরে যেখানে আগুন লেগেছে, পাশাপাশি দু’টি গোডাউন। একটি ডেকরেটর্সের, অন্যটি মোমোর। রবিবার রাতে সেখানেই ভয়াবহ আগুন লাগে। রাত অবধি আট জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিখোঁজ আরও অনেকে। সেই রাতে আনন্দপুরের ওই জতুগৃহে ছিলেন সুতাহাটার সুজিত গাউনিয়া, মানবেন্দ্র খাঁড়া।

    সুজিতের কথায়, ‘ফুলের কাজ করতাম ওখানে। রবিবার রাতে যখন আগুন লাগে, চার দিকে অন্ধকার। সামনে কী হচ্ছে দেখতে পাচ্ছি না। গরম তাপ বেরোচ্ছে। দু’ একবার শ্বাস নিয়ে আর কিছু মনে নেই। পরে যখন একটু হুঁশ এল, দেখি গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিন জন ছিলাম গাড়িতে।’

    সুতাহাটার গাজিপুরের সুজিত গাউনিয়া জানান, তাঁদের কেউ উদ্ধার করেনি। নিজেরাই প্রাণ হাতে নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন। একই কথা হরিবল্লভপুরের মানবেন্দ্র খাঁড়ারও। দু’জনেই ২-৩ বছর ধরে ডেকরেটর্সের কাজের সঙ্গে যুক্ত। এই ঘটনায় দু’জনেই কমবেশি আহত হয়েছেন।

    সুতাহাটার হরিবল্লভপুর ও গাজিপুর পাশাপাশি দুই গ্রাম। মোট চার জন শ্রমিক আনন্দপুরে ডেকরেটর্সের গোডাউনে কাজ করতেন‌। রবিবার রাতে অগ্নিকাণ্ডের পরে এখনও খোঁজ নেই নান্টু খাঁড়া (৩৩) ও সুব্রত খাঁড়া (৩৪)-র। পরিবারের লোকেরা উদ্বিগ্ন। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পরে সুজিত বলছেন, ‘যদি মরতে ইচ্ছে হয়, তবে সেখানে যাব।’

  • Link to this news (এই সময়)