• ভোটমুখী বঙ্গে সংযত ভাষণ, প্রথম সফরে বাঙালি আবেগই টানলেন নিতিন নবীন
    আজ তক | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলেন নিতিন নবীন। মঙ্গলবার বিকেলে অন্ডাল বিমানবন্দরে নামার পরই তাঁর গন্তব্য ছিল দুর্গাপুরের কমল মেলা। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি একটি সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান হলেও, রাজনীতির অন্দরে এই সফরকে নিছক সৌজন্য সফর বলে দেখছেন না কেউই। ভোটমুখী বাংলায় নতুন সর্বভারতীয় সভাপতির প্রথম সফর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

    কমল মেলার মঞ্চ থেকে নিতিন নবীনের বক্তব্যে যদিও সেভাবে তাঁর আচ মিলল না। 'বঙ্গভূমিকে আমি প্রণাম জানাই', বাংলায় বলে ভাষণ শুরু করেন। বক্তব্যে উঠে আসে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে মহানায়ক উত্তম কুমারের নাম। বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মনীষীদের স্মরণ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির সেভাবে এগোতে না পারার অন্যতম কারণ ছিল 'বহিরাগত' তকমা। সেটাই সম্ভব ভাঙার চেষ্টা করছেন বিজেপি নেতারা।রাজ্যে আগত দিল্লির নেতারা তাই বারবার বাংলা বলে, বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি, মণীষিদের কথা বলেন। এদিন নিতিনের বক্তব্যেও তার ব্যাতিক্রম ঘটল না। একই সঙ্গে আনন্দপুরের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

    এদিন কোনও সরাসরি রাজনৈতিক আক্রমণ বা তৃণমূল-বিরোধী স্লোগান শোনা যায়নি তাঁর মুখে। বরং কমল মেলার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পী ও কারিগরদের ব্যবসা এবং পরিচিতির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। এতে রাজ্যের শিল্প ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখে বিজেপির 'পজিটিভ ন্যারেটিভ' তৈরির কৌশলেরই ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে।

    তবে সফরের আসল রাজনৈতিক গুরুত্ব লুকিয়ে সন্ধ্যার কর্মসূচিতে। রাতেই দুর্গাপুরে বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা নিতিন নবীনের। সূত্রের খবর, বৈঠকে রাজ্যের জোন ভিত্তিক সাংগঠনিক রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখবেন তিনি। অর্থাৎ, প্রকাশ্যে সংযত বক্তব্যের আড়ালে দলের অন্দরে পুরোদমে জারি ২০২৬-এর প্রস্তুতি। প্রথম বঙ্গ সফরেই সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।  
  • Link to this news (আজ তক)