• জল-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি, সিঙ্গুর থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী 
    এই সময় | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • অবশেষে জল-যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন ঘাটাল এলাকার বাসিন্দারা। প্রতি বছর বন্যায় ডুবতে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। এই যন্ত্রণার হাত থেকে রেহাই পেতে দীর্ঘ দিন ধরেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছিলেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। আজ, বুধবার, হুগলির সিঙ্গুর থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুইয়াঁ এবং ঘাটালের তিন বারের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)-র উপস্থিতিতে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শত শতকের আশির দশকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের শিলান্যাস হয়েছিল। তবে নানা জটিলতায় সেই কাজ হয়নি। ফলে প্রতি বছর ঘাটাল-সহ পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ অংশ বন্যায় প্লাবিত হয়। গত বছরেও একাধিক-বার বন্যা কবলিত হয়েছিল ঘাটাল এলাকা।

    গত লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেব এই প্রকল্প বাস্তাবায়িত হবেই বলে জানিয়েছিলেন। এই প্রকল্প বাস্তাবায়িত না হওয়ার জন্য কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ করেছিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্র বঞ্চনা করলেও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রাজ্য সরকারই করবে বলেও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি এবং অন্যান্য যে জট ছিল ছাড়িয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারি এই প্রকল্পের জন্য কাজ শুরু হয়। আর সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন হচ্ছে।

    রাজ্য সরকার এবং সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে উপকৃত হবেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল, দাসপুর-১ ও ২, চন্দ্রকোনা-১ ও ২, কেশপুর এবং ডেবরা ব্লক। পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো উপকৃত হবেন পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া-১, কোলাঘাট, ময়না এবং তমলুকের মানুষ। এ ছাড়াও ঘাটাল ও পাঁশকুড়া পুরসভার বাসিন্দারাও এর সুফল পাবেন। এর ফলে উপকৃত হবেন ৮০১ বর্গ কিলোমিটার এলাকার প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ । ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫০০ কোটি টাকা। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই প্রকল্পে বিভিন্ন নদী এবং খাল সম্প্রসারণ করা ছাড়াও সেতু নির্মাণও করা হচ্ছে।

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ দিন ধরেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করার দাবিতে আন্দোলন করেছি। এই প্রকল্পের এখনও যে কাজ বাকি আছে তা দ্রুত শেষ করা হবে বলে আমাদের আশা।’ এই কাজ হওয়ার ফলে ঘাটাল এবং ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের আর প্রতি বছর বন্যার কবলে পড়তে হবে না বলে জানিয়েছেন রাজ্যের সেচ এবং জলসম্পদ মন্ত্রী।

  • Link to this news (এই সময়)