• অহিন্দুদের জন্য এবার বন্ধ হচ্ছে কেদারনাথ ও বদ্রীনাথের দরজা! বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব মোট ৪৯ মন্দিরে
    বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ ও বদ্রীনাথে অহিন্দুদের প্রবেশে জারি হবে নিষেধাজ্ঞা! এমনই প্রস্তাব মন্দির কমিটির। জানা যাচ্ছে, কেদারনাথ-বদ্রীনাথ মন্দির কমিটির (বিকেটিসি) আওতাধীন ৪৯ টি মন্দিরেই জারি হবে এই বিধিনিষেধ। মন্দির কমিটির আগামী বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এক সদস্য। কয়েকদিন আগেই হরিদ্বারের গঙ্গার ১০৫টি ঘাটে অহিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দাবি করেছিল গঙ্গাসভা নামের একটি সংগঠন।মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদীর যুক্তি, কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ কোনও পর্যটনস্থল নয়। তাই সেখানে প্রবেশ নাগরিক অধিকারের মধ্যে পড়ে না। তিনি বলেছেন, ‘কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ পর্যটনস্থল নয়। এগুলি আদি শংকরাচার্য প্রতিষ্ঠিত বৈদিক পরম্পরার কেন্দ্র। ভারতীয় সংবিধানের ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রতিটি ধর্মকে তাদের ধর্মীয় কেন্দ্র পরিচালনার অধিকার দেয়। এই সিদ্ধান্ত কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। বরং এই স্থানগুলির ধর্মীয় মাহাত্ম্য, শান্তি ও শুদ্ধতা বজায় রাখার জন্য।’ তবে কি শিখ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের জন্যও বন্ধ হয়ে যাবে মন্দিরের দরজা? উত্তরে হেমন্ত বলেছেন, ‘যাদের সনাতন ধর্মে শ্রদ্ধা রয়েছে, তাঁদের সকলকেই মন্দিরে স্বাগত।’ চলতি বছরের চারধাম যাত্রা থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই গঙ্গোত্রী মন্দির কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গঙ্গার শীতকালীন আবাসে অহিন্দুদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। গত বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্দিরের প্রধান সুরেশ সেমবাল।বিষয়টি নিয়ে উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকারকে এক হাত নিয়েছে কংগ্রেস। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াত বলেছেন, বহু ধর্মীয়স্থানেই এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিজেপি বিষয়টি নিয়ে অযথা রাজনীতি করছে। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, সারা বিশ্বে অন্যান্য ধর্মগুলি তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে  পরিচয় ঘটাতে অন্যান্যদের আহ্বান করছে। আর এখানে নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে। তাঁর দাবি, দেশে বহু হিন্দু মন্দির নির্মাণে অহিন্দুদের অবদানের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না।
  • Link to this news (বর্তমান)