বন্দে ভারত স্লিপারে মিলতে পারে আমিষ খাবারও, ঘোষণা শীঘ্রই
বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: উদ্বোধনী যাত্রার আগেই খাবার নিয়ে চরম বিতর্কে জড়িয়েছে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেন। কেন তাঁদের নিরামিষ খাবার খেতে বাধ্য করা হবে, সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন সাধারণ যাত্রীদের একটি বড় অংশ। এমনকি এই ইস্যুতে একেবারে উদ্বোধনী যাত্রার দিনই তুলকালাম হয়েছে কামাখ্যা থেকে হাওড়াগামী বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনে। নির্বাচনী আবহে দুই ভোটমুখী রাজ্য অসম এবং বাংলায় প্রথম শয়নযানবিশিষ্ট বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করলেও খাবার বিতর্কে আদতে তা ব্যুমেরাং হয়ে উঠেছে গেরুয়া শিবিরের কাছে। এই পরিস্থিতিতে রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রেখবর, শীঘ্রই বিতর্কের অবসান ঘটতে চলেছে। হাওড়া-গুয়াহাটি রুটের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনে ফিরতে চলেছে আমিষ খাবার।যদিও এসংক্রান্ত কোনওরকম নির্দেশিকা মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারিভাবে জারি হয়নি। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আইআরসিটিসির ওয়েবসাইট থেকে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট কাটতে গেলে এই মুহূর্তে আর কেটারিং পরিষেবার কোনও বিকল্পই দেওয়া হচ্ছে না। শুধু লেখা থাকছে, ‘কেটারিং সার্ভিসেস আর সাবজেক্ট টু সার্ভিস টাইমিংস’। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ে কেন ‘নো ফুড’ অপশন নেই, তা নিয়েও সম্প্রতি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। রেলের যুক্তি ছিল, যেহেতু এই ট্রেনে টিকিটের সঙ্গেই খাবারের মূল্য ধরা রয়েছে, তাই ‘নো ফুড’ বিকল্প রাখা হয়নি। তবুও সেখানে এতদিন ‘ভেজ’ বিকল্পটি বাধ্যতামূলকভাবে বাছাই করা যাচ্ছিল। এবার কেটারিং সংক্রান্ত যাবতীয় বিকল্পই উঠিয়ে দিয়েছে রেলমন্ত্রক। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে আমিষ খাবার যে ফিরছে, সম্প্রতি রাজ্যে সেই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তাঁর দাবি, তিনি সরাসরি এব্যাপারে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে কথা বলেছেন। যদিও এনিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে রেলের মধ্যেই। কারণ উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল জোন দাবি করেছে, তাদের কাছে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এসংক্রান্ত কোনও নির্দেশিকা আসেনি। কোনও বিবৃতিও জারি করতে বলা হয়নি। তারা এবিষয়ে বল ঠেলে দিয়েছে আইআরসিটিসির কোর্টেই। অন্যদিকে, রেল বোর্ডের এক বিশেষ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনে একইসঙ্গে নিরামিষ এবং আমিষ খাবার সরবরাহের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলা হয়েছে। খুব দ্রুতই এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।