• ইউজিসির নয়া বিধির তীব্র প্রতিবাদ, চাপের মুখে আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
    বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সমতা ফেরানোর নামে আদতে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ক্যাটিগরির পড়ুয়াদের হেনস্তার পথ তৈরি করে দিতে চাইছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে কার্যকর হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ‘দ্য প্রোমোশন অব ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশন, ২০২৬’-এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেই সম্প্রতি সরব হয়েছিলেন পড়ুয়াদের একটি বড় অংশ। গত সপ্তাহেই বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়। এবার সরাসরি দিল্লিতে প্রতিবাদ আন্দোলনের পথে হাঁটা হবে। সেইমতো মঙ্গলবার দিল্লিতে ইউজিসির কার্যালয়ের সামনে ঠান্ডা এবং বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই তুমুল বিক্ষোভে শামিল হলেন শ’য়ে শ’য়ে জেনারেল ক্যাটিগরির ছাত্রছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কার্যালয়ে এদিন একটি স্মারকলিপিও জমা দেন আন্দোলনকারীরা। তাদের হুঁশিয়ারি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে ইউজিসিকে।ছাত্রছাত্রীদের দাবি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এবিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্বাভাবিকভাবেই একে কেন্দ্র করে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে মোদি সরকার। মঙ্গলবার চাপে পড়ে এমনকি এবিষয়ে বিবৃতি দিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এদিন তিনি স্পষ্টই জানিয়েছেন, আইনের কোনোরকম অপপ্রয়োগের আশঙ্কা নেই। সংরক্ষিত শ্রেণি হোক কিংবা জেনারেল ক্যাটিগরি—কোনও পড়ুয়ার সঙ্গেই বৈষম্যমূলক আচরণ করা হবে না। প্রসঙ্গত, রোহিত ভেমুলা এবং পায়েল তারভির মায়েদের করা একটি পিটিশনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট রেগুলেশন কার্যকরের নির্দেশ দেয় ইউজিসিকে। সেইমতো গত ১৩ জানুয়ারি থেকে তা দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে চালু করে দেয় ইউজিসি। এর পর থেকেই দানা বাঁধতে থাকে তীব্র বিতর্ক। জেনারেল ক্যাটিগরির ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, এহেন রেগুলেশনে সংরক্ষিত শ্রেণির পড়ুয়ারা বৈষম্যমূলক আচরণ সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ করলে কার্যত বিনা বাক্য ব্যয়ে অভিযোগের কাঠগড়ায় তোলা হবে অসংরক্ষিত শ্রেণির পড়ুয়াদের। এমনকি এক্ষেত্রে তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও সেভাবে দেওয়া হবে না। এপ্রসঙ্গেই রেগুলেশনের অপপ্রয়োগ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। যদিও এপ্রশ্নে বিজেপিকেই অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে সংঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। বিদ্যার্থী পরিষদ এদিন জানিয়েছে, এহেন রেগুলেশনের উদ্দেশ্য খারাপ নয়। কিন্তু এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা এবং ভারসাম্য প্রয়োজন। অন্যদিকে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এপ্রশ্নে কেন্দ্রের পাশেই দাঁড়িয়েছেন সমাজবাদী পার্টির (সপা) সাংসদ রামগোপাল যাদব। এদিন তিনি বলেছেন, ইউজিসি ভুল কিছু করেনি। কেউ বিচার না পেলে তা নিয়ে অভিযোগ করার সুযোগ তারা করে দিয়েছে মাত্র। অন্যদিকে, সাপোর্ট ইউজিসি হ্যাশট্যাগে পালটা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করেছে সংরক্ষিত শ্রেণির পড়ুয়াদের একাংশ। ছবি: পিটিআই
  • Link to this news (বর্তমান)