• বিপুল সস্তা গাড়ি, ওষুধ, ভোজ্যতেল
    বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শুল্ক-মস্তানি’র মুখে সজোরে চপেটাঘাত! ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা চূড়ান্ত করল ভারত। সম্ভবত বছর শেষেই সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। মঙ্গলবার, সাধারণতন্ত্র দিবসের পরদিন একথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। ইউরোপের ২৭টি দেশের ‘ব্লকে’র সঙ্গে ভারতের এই চুক্তি সংক্রান্ত একটি যৌথ ঘোষণাপত্রও তৈরি করা হয়। তাতে স্বাক্ষর করেছেন মোদি-উরসুলা এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা। দীর্ঘ প্রায় দু’দশক ধরে আলোচনার পর অবশেষে মিলল এই সাফল্য। এতে বিশাল সুরাহা হবে দু’তরফেরই। ঘটনাচক্রে ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্য নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়েছে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন— দু’পক্ষেরই। ট্রাম্পের চড়া শুল্ক আরোপ ও হুঁশিয়ারির আবহে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বিশ বাঁও জলে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের দ্বিতীয় ও চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির (একত্রে বিশ্বের মোট জিডিপির ২৫ শতাংশ) কাছাকাছি আসা নিশ্চিতভাবে তাৎপর্যের।এদিন দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, ‘‘মাদার অব অল ডিলস’কে আমরা বাস্তবায়িত করেছি। আমরা কাজটা করে দেখালাম।’ সরকারি সূত্রে খবর, এই ‘মাদার অব অল ডিলস’ বাস্তবায়িত হলে সিংহভাগ ক্ষেত্রেই আমদানি শুল্ক হয় উঠে যাবে, নয়তো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমবে। ফলে ভারতের বাজারে দাম কমবে ইউরোপ থেকে আমদানি করা গাড়ি, সুরা, ওষুধ, কৃষিজাত পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেশিন সহ অসংখ্য সামগ্রীর। যন্ত্রাংশ সস্তা হওয়ায় দাম কমতে পারে মোবাইল ফোনেরও। একইভাবে ইউরোপের বাজারে বিশাল সুবিধা পাবে পোশাক, চামড়া, রত্ন ও গয়নার মতো ভারতীয় পণ্যের রপ্তানিকারীরাও।এই চুক্তির ফলে ভারতীয় বাজারে ইউরোপীয় বিলাসবহুল গাড়ির উপর শুল্ক সর্বোচ্চ ১১০ শতাংশ থেকে প্রথমে ৩০-৩৫ শতাংশে নেমে আসবে। পরে ধাপে ধাপে তা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। ইউরোপীয় ওয়াইনে করের পরিমাণ ১৫০ শতাংশ থেকে কমে অর্ধেক (৭৫ শতাংশ) হবে চুক্তি কার্যকরের প্রথম বছরেই। পরে ধাপে ধাপে তা নেমে আসবে ২০-৩০ শতাংশে। স্পিরিটে (অ্যালকোহল) শুল্ক কমে হতে পারে ৪০ শতাংশ। যন্ত্রাংশ এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে ৪৪ শতাংশ কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে। অলিভ অয়েল, ভোজ্য তেলে শুল্কের পরিমাণ ৪৫ শতাংশ থেকে আগামী পাঁচ বছরে কমে শূন্য হবে। একইভাবে চকোলেট, পাউরুটি ও কনফেকশনারির মতো প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে ৫০ শতাংশ কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হতে পারে। ইউরোপ থেকে আমদানি করা বিফ, পোলট্রি, চাল ও চিনিকে এই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত চুক্তি মোতাবেক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯৬.৬ শতাংশ পণ্যের উপর শুল্ক ভারত হয় কমিয়ে দেবে, নয়তো প্রত্যাহার করবে। ইইউয়ের হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতীয় বাজারে তাদের পণ্যের রপ্তানি বেড়ে দ্বিগুণ হবে। ইউরোপীয় সংস্থাগুলির কর বাবদ সাশ্রয় হবে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ইউরো। ভারতীয় পণ্যের জন্যও আগের তুলনায় অনেক বেশি মুক্ত হবে ইউরোপের বাজার।
  • Link to this news (বর্তমান)