সৌম্য দে সরকার, মালদহ:দলের সাংগঠনিক কাঠামো কিছুটা থাকলেও নেই উৎসাহী এবং সক্রিয় কর্মী। এসআইআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তৎপরতা নেই দলের অনেক কর্মী কিংবা বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ)। এমন বেহাল অবস্থার কথা জানিয়ে দলের অন্দরে এবং বাইরে খেদ প্রকাশ করছেন বিজেপিরই বেশকিছু নেতাকর্মী। তাঁদের দাবি, ধর্মীয় মেরুকরণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম ব্যবহার এবং জয় শ্রীরামের ভরসাতেই নির্বাচনে বাজিমাত্ করার সহজ অঙ্ক কষছেন দলের অনেকে। বিষয়টি ততটা সহজ হবে না বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ওই সমালোচক নেতাকর্মীরা। তবে, এই উদ্বেগ অমূলক ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব।উত্তর মালদহে বিজেপির নির্বাচনী সাফল্য দক্ষিণ মালদহের থেকে তুলনামূলক অনেকটাই বেশি। মালদহ উত্তরে রয়েছেন বিজেপির তিনজন বিধায়ক, একজন সাংসদ এমনকী জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যও। কিন্তু এই নির্বাচনী সাফল্য আসলে সাংগঠনিক সাফল্যের সূচক নয় বলে আক্ষেপ দলের জেলা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের।তিনি বলেন, অনেক নেতাকর্মী মাটি কামড়ে লড়লেও জনসংযোগে আমাদের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু আমাদের দলের অনেক বিএলএ-২ তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ। তৃণমূল এর সুযোগ নিচ্ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। পঞ্চায়েত স্তরে নির্বাচিত এক বিজেপি জনপ্রতিনিধির কথায়, এত গাফিলতির পরেও আমরা যে কটা আসন জিতছি, তার পিছনে রয়েছে তিনটি ফ্যাক্টর।প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা, বেশকিছু এলাকায় হিন্দু ভোট সংঘবদ্ধ হওয়া এবং রামনামের ভরসা। কিন্তু এভাবে দীর্ঘদিন চলতে পারে না। তবে, এই বক্তব্যকে আমল দিতে নারাজ মালদহ উত্তর জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। দলের উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রতাপ সিংহ বলেন, কে বলেছে আমাদের কর্মীরা ময়দানে সক্রিয় নন? এসআইআর প্রক্রিয়ায় দলের কর্মীরা প্রশংসনীয় ভূমিকা নিয়েছেন। নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে প্রয়োজনীয় ফর্ম তোলা, জমা দেওয়ায় সাহায্য করা, সব তাঁরাই করেছেন। একদিকে তাঁরা তৃণমূলের হাতে খুন হওয়ার ভয়কে উপেক্ষা করে লড়াই করছেন, অন্যদিকে, সাংগঠনিক দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন। তবে, রাম মন্দির তৈরি হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আস্থা বেড়েছে আমাদের উপর। প্রধানমন্ত্রীর আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তাও আমাদের এগিয়ে রেখেছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। তবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশিত পথে হেঁটে আমরা সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে যে অন্য রাজনৈতিক দলকে এরাজ্যে অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছি, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।