সোমনাথ চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি:মানুষের সেবায় ‘চলমান অফিস’ বানিয়েছেন ময়নাগুড়ি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ঝুলন সান্যাল। পুরবাসীর যেকোনও ধরনের সার্টিফিকেট প্রয়োজন হলেই তিনি নিজেই পৌঁছে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট নাগরিকের বাড়িতে। কোথায় আবার রাস্তার পাশেই চেয়ার নিয়ে বসে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। তাঁর স্কুটারের ডিকিতে রাখা থাকছে অফিসিয়াল প্যাড, স্ট্যাম্প ইত্যাদি। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, যেখানে মানুষের প্রয়োজনে একজন কাউন্সিলার হয়ে আমি সর্বদা কাজ করছি, সেখানে ময়নাগুড়ির বিজেপি বিধায়ক কৌশিক রায়কে এলাকায় দেখাই যায় না। যদিও বিধায়ক জানিয়েছেন, তাঁর ফোন সর্বদা অন থাকে। যেকেউ চাইলে যোগাযোগ করে আসতে পারেন।ঝুলন সান্যাল ময়নাগুড়ি পুরসভা ভোটে প্রায় ৯৬০ ভোটে জয়ী হন। হাট হোক কিংবা বাজার, যেকোনও রাস্তা বা নিজের বাড়িতে, ফোন করলেই তাঁকে পাওয়া যায়। রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট, ইনকাম সার্টিফিকেট বা অন্য কোনও সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই তথ্য যাচাই করে ইস্যু করেন। প্রয়োজনে নিজেই সেই সার্টিফিকেট লিখে, সই করে, সিলমোহর দিয়ে বাসিন্দার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসেন। তাঁর এমন কাজে ওয়ার্ডবাসী খুশি।ঝুলন সান্যাল বলেন, আমাদের নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সারা বছর মানুষের জন্য কাজ করেন। তিনি আমার অনুপ্রেরণা। মুখ্যমন্ত্রী ময়নাগুড়িকে পুরসভা উপহার দিয়েছেন। আমি ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছি। সেই কারণেই দায়িত্ব আরও বেড়েছে। মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চাই। তবে দুঃখ হয়, বিধায়কের মতো দায়িত্ব পাওয়ার পরেও বিজেপির কৌশিক রায় পরিষেবা দিতে ব্যর্থ। তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এর জবাব মানুষ দেবে।৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন সরকার বলেন, যেকোনও সার্টিফিকেটের প্রয়োজন হলে কাউন্সিলারকে ফোন করি। উনি নিজেই সেই সার্টিফিকেট নিয়ে হাজির হন বাড়িতে। অথচ বিধায়ককে আমি চিনি না, তাঁকে দেখিওনি।আনন্দনগরর বাসিন্দা সম্রাট চক্রবর্তী বলেন, ভোটে জেতার পর বিধায়ক বেপাত্তা। মহাকালপাড়ার বাসিন্দা গোপাল ঘোষ বলেন, বিধায়ককে এলাকায় দেখা যায় না।যদিও বিধায়ক কৌশিকবাবু বলেন, আমি কি কাজ করেছি তার তালিকা খুব শীঘ্রই প্রকাশ করব। আসলে আমি প্রচারের আলোয় আসতে পছন্দ করি না। আমার চিন্তা না করে, তৃণমূল নিজের চিন্তা করুক। মানুষ চাইলে আমাকে ফোন করতেই পারে। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার সহ সভাপতি চঞ্চল সরকার বলেন, বিধায়ক বিধায়কের মতো কাজ করছেন। আমি জোর গলায় বলতে পারি, তাঁর কাছে কোনও সার্টিফিকেটের জন্য বা অন্য কাজে গিয়ে ঘুরে এসেছে, এমন মানুষ পাওয়া যাবে না।• নিজস্ব চিত্র।