নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উত্তরের সবচেয়ে বড় শৈবতীর্থ জল্পেশ মন্দির কিংবা জলপাইগুড়ি রাজবাড়ির আদলে গড়ে উঠছে রেল স্টেশন। আগামী মার্চের মধ্যেই কাজ শেষের টার্গেট রেলের। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের অধীনে অমৃত ভারত প্রকল্পে ১৫টি স্টেশন আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। এর মধ্যে জলপাইগুড়ি রাজবাড়ি এবং রাজবাড়ির সিংহদুয়ারের আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন। ময়নাগুড়ির জল্পেশ শিবমন্দিরের আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে ধূপগুড়ি স্টেশন। জোরকদমে চলছে কাজ।মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ারের ডিআরএম দেবেন্দ্র সিং বলেন, জলপাইগুড়ি রাজবাড়ি ও জল্পেশ মন্দিরের অনুকরণে স্টেশন সেজে উঠছে। মার্চের মধ্যেই জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনের কাজ শেষ হয়ে যাবে। ধূপগুড়ি স্টেশনের কাজ শেষ হতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে। তবে দ্রুত তা শেষ করার চেষ্টা চলছে। কামাখ্যাগুড়ি স্টেশনে অমৃত ভারত প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায় বলেন, স্থানীয় প্রসিদ্ধ কিংবা হেরিটেজ স্থানের নামে যাতে অমৃত ভারত প্রকল্পের স্টেশনগুলি গড়ে তোলা হয়, সেব্যাপারে রেলের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। আমার সেই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে জলপাইগুড়ি রাজবাড়ি ও রাজবাড়ির সিংহদুয়ারের আদলে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন এবং জল্পেশ মন্দিরের আদলে ধূপগুড়ি স্টেশন সেজে উঠছে। জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন ঘিরেও বেশকিছু পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ নেবে রেল। জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনে পা রেখেছেন এমন দেশবরেণ্য এবং মহামানবদের স্মৃতিতে একটি মিউজিয়ামও তৈরি হবে।ট্রেনযাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অবশ্য অভিযোগ, অন্যান্য স্টেশনে অমৃত ভারত প্রকল্পের কাজ যেভাবে হচ্ছে, তুলনায় জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনের গতি অনেকটাই কম। ফলে আদৌও ওই কাজ কবে শেষ হবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে তাঁদের মধ্যে। জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনটি উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের অধীনে। সম্প্রতি কাটিহারের ডিআরএম কিরেন্দ্র নারাহ জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন পরিদর্শনে আসেন। সেসময় প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অমৃত ভারত প্রকল্পের কাজের গতি ঠিক আছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ওই কাজ শেষ হয়ে যাবে। জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনে মনীষীদের নামাঙ্কিত মিউজিয়াম তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি আমরা।জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনটির পরিকাঠামো বাড়লে অদূর ভবিষ্যতে এখান থেকে আরও ট্রেন চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন শহরবাসীর অনেকে। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন থেকে কলকাতা যাওয়ার সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হয়েছে। বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের স্টপ দেওয়া হয়েছে জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনটির পরিকাঠামো বাড়লে হলদিবাড়ি পর্যন্ত আরও কয়েকটি ট্রেন চালানোর দাবি উঠেছে। এরমধ্যে অন্যতম হলদিবাড়ি-কলকাতা সুপারফাস্ট যাতে প্রতিদিন চলে সেব্যাপারে রেলের কাছে আর্জি রেখেছে জলপাইগুড়ি নাগরিক মঞ্চ। একইসঙ্গে বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস যাতে হলদিবাড়ি পর্যন্ত চালানোর ব্যাপারেও আবেদন রেখেছে তারা।জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদের দাবি, বালুরঘাট-শিলিগুড়ি ইন্টারসিটি হলদিবাড়ি পর্যন্ত চালানোর ব্যাপারে ট্রায়াল রান শুরু করছে রেল। সাংসদের দাবি, এনজেপিকে যাতে পৃথক ডিভিশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়, সেব্যাপারেও রেলমন্ত্রীর কাছে দরবার করা হয়েছে।• জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন। - নিজস্ব চিত্র।