সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে শামুকতলা থানার পুলিশ সোমবার রাতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। নাবালিকাকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে ওই যুবক। ধর্ষণের কারণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে নাবালিকা। অন্তসত্ত্বা অবস্থায় সোমবার হঠাৎই কিশোরী বাড়িতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ফলে নাবালিকাটিকে তড়িঘড়ি আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নাবালিকা একটি মৃত সন্তান প্রসব করে। নাবালিকার শারীরিক পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় চিকিৎকরা বাধ্য হয়ে তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে পাঠায়। রাতের দিকে শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিসিইউতে স্থানান্তরিত করে। জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ পরিতোষ মণ্ডল বলেন, নাবালিকাটিকে একেবারে মরণাপন্ন অবস্থায় আনা হয়েছিল। সেই অবস্থাতে নাবালিকার সিজার করে একটি মৃত সন্তান বের করা হয়। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টায় নাবালিকা আপাতত বিপদমুক্ত। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর চিকিৎসকদের অনুমাণ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর নাবালিকাকে গর্ভপাতের কোনও ওষুধ খাওয়ানো হতে পারে। তারজন্যই সে হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এদিকে, নাবালিকার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম দীপঙ্কর মাহালি। সে চা বাগানের ট্রাক্টর চালক। পুলিশ ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রজু করেছে। তবে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর পরিবারের কারও চোখে কেন এতদিন নাবালিকার শারীরিক পরিবর্তন নজরে এল না তা নিয়েই ধন্দে পড়েছে তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা। মনে করা হচ্ছে অভিযুক্ত যুবক প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়াতে নাবালিকাটিও এই ধর্ষণের কথা কাউকে বলতে পারেনি।পুলিশ মঙ্গলবার ধৃত যুবককে আদালতে পাঠায়। শামুকতলা থানার ওসি অসীম মজুমদার বলেন, নাবালিকার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে পেশ করে তদন্তের স্বার্থে আমরা ধৃত যুবককে হেফাজতে পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে।