• চিতাবাঘকে পিটিয়ে হত্যা! বুনোর হামলায় জখম একাধিক
    বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, ফালাকাটা: চিতাবাঘের হামলাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়ায় ফালাকাটা ব্লকে। ঘটনার জখম হন আটজন। ওই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে চিতাবাঘটির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় এলাকাতেই। ঘটনাটি ধনীরামপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শিসাবাড়ি সরুগাঁও গ্রামের মাগুরটারিতে। দলগাঁওয়ের রেঞ্জার ধনঞ্জয় রায় বলেন, চিতাবাঘটির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্তে নামা হয়েছে। জখমদের চিকিৎসা চলছে বীরপাড়ার হাসপাতালে।গত সোমবার বিকেলে সরিষা খেতের আলপথ দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই চিতাবাঘের হামলার মুখে পড়ে এক কিশোরী। দিনের আলোতেই চিতাবাঘের আক্রমণে কিশোরী গুরুতর জখম হয়। কিশোরীর চিৎকার শুনে তাকে উদ্ধার করতে ছুটে আসেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। এদিকে, চিতাবাঘটিকে খুঁজতে গিয়ে এবং কিশোরীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে একেএকে আরও সাতজন গ্রামবাসী বুনোর হামলার শিকার হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদের কারও ঘাড়ে, কারও মাথায় আবার কারও পায়ে চিতাবাঘ কামড় বসায়। স্থানীয় ও বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ঘটনায় এক কিশোরী সহ মোট আটজন জখম হয়েছেন। প্রত্যেকেরই চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে।চিতাবাঘের পরপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন জলপাইগুড়ি ডিভিশনের বনদপ্তরের কর্মীরা। পরে তাঁরা গ্রামের একটি সরিষা খেতের ধারে চিতাবাঘটিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে চলে আসে জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশও। বনদপ্তরের দলগাঁও রেঞ্জের কর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত চিতাবাঘের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যান।বন বিভাগের প্রাথমিক অনুমান, চিতাবাঘটিকে পিটিয়ে মারা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই চিতাবাঘটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন দলগাঁওয়ের রেঞ্জার। এদিকে, আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোটা এলাকায় বনদপ্তর ও পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। চিতাবাঘটি কোথা থেকে এসেছে, তার কারণ অনুসন্ধান করছে বনদপ্তর।  নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)