নার্সিংহোমে প্রসূতির মৃত্যুতে গাফিলতির অভিযোগ, ভাঙচুর,ভয়ে কাজ ফেলে পালালেন কর্মীরা • এলাকায় পুলিশ
বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, ইসলামপুর: চিকিৎসায় গাফিলতিতে প্রসূতি মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে ইসলামপুরের রামগঞ্জের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। উত্তেজিত জনতা নার্সিংহোমে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। যদিও চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ মানতে চায়নি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত প্রসূতির নাম পিংকি খাতুন (২২)। বাড়ি কমলাগাঁও সুজালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলঝাড়ি এলাকায়।ইসলামপুর পুলিস জেলার এসপি জবি থামা বলেন, মৃতার পরিবার থেকে বিক্ষোভ হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে বিক্ষোভ সামাল দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে পিংকির প্রসব যন্ত্রণা ওঠে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে রামগঞ্জের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করেন। রাতেই সিজারের মাধ্যমে তিনি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। দেড়-দুই ঘণ্টা পর থেকেই তাঁর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর এলাকায় চাউর হতেই বাসিন্দারা নার্সিংহোমের সামনে জমা হন। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে পরিবারের সদস্যরা সরব হন। এতে উত্তেজিত হয়ে পড়ে মানুষজন। তারা নার্সিংহোমে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। ভয়ে কর্মীরা নার্সিংহোম ছেড়ে পালিয়ে যান। গণ্ডগোলের জেরে মৃতদেহ দীর্ঘ সময় সেখানেই ছিল। দিনভর বিক্ষোভের পর বিকেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।মৃত প্রসূতির ভাই ফজলে করিম বলেন, সিজারের পরই বোন অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখানে চিকিৎসকও ছিলেন না। নার্সিংহোম না লোক মারার মেশিন খুলেছে। মানুষকে ভূল বুঝিয়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের পক্ষে কাইজার আলম বলেন, চিকিৎসার গাফিলতি হয়নি। গভীর রাত পর্যন্ত সুস্থই ছিল। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে মৃত্যু হয়। উত্তর দিনাজপুর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, প্রসূতির মৃত্যুর বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব।বাসিন্দারা বলছেন, রামগড় এলাকায় এর আগেও অন্য নার্সিংহোমে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরিকাঠামোর ছাড়াই একাধিক স্থানে চিকিৎসা করা হয়। এর জেরে মৃত্যু হচ্ছে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচিত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া। নিজস্ব চিত্র।