ডেকরেটরের ব্যবসা করেই উত্থান খেজুরির গঙ্গাধরের, স্কুল ও বিএড কলেজের মালিক
বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, কাঁথি: খেজুরির টিকাশি পঞ্চায়েতের পূর্বচড়া গ্রামের বাসিন্দা গঙ্গাধর দাস ডেকরেটর ব্যবসায়ী। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে ডেকরেটর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের ছেলে গঙ্গাধর মাধ্যমিক পাশ করার পর কলকাতার ভবানীপুরে গ্রামেরই একজনের কাছে ফুল সাজানোর কাজে ঢুকেছিলেন। সেখানে কাজ শিখে নিজেই ফুলের ব্যবসা শুরু করেন। তারপর ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসা বাড়িয়েছেন। আজ তাঁর কোটি টাকার ব্যবসা। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল ও বিএড কলেজের মালিক। কলকাতার আনন্দপুরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছে মোমো কারখানা। ওই কারখানার পাশেই ছিল ডেকরেটরের গোডাউন। সেটিও পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। ওই ডেকরেটরের গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে নরেন্দ্রপুর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাঁকে প্রথমে আটক করেছিল পুলিশ। পরে গ্রেপ্তার করা হয়। যে গোডাউনে আগুন লেগেছিল সেই জমির মালিক গঙ্গাধর। মোমো কোম্পানি ডেকরেটরের গোডাউন লিজে নিয়ে ব্যবসা করছিল বলে জানা গিয়েছে। এশিয়ার সেরা ফুল ব্যবসায়ী হিসেবে কয়েক বছর আগে তিনি পুরস্কারও পান। তাঁর কারখানায় বিদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্লাস্টিক ফুল নিয়ে আসা হয়। সেই ফুল দিয়ে অনুষ্ঠান বাড়ি, সভা, সমিতির মঞ্চ সহ অন্যান্য জায়গায় সাজানোর কাজ হয়। আনন্দপুর এলাকায় চার বিঘা জমির উপর কারখানা ও গোডাউন ছিল। সেখানেই আগুন লাগে। গঙ্গাধর সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কাজ করতেন। সেখানে তাঁর সংস্থায় প্রায় ২০০জন কাজ করেন। আনন্দপুরের গোডাউনে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকের, ফুল, কাঠ, কাপড়, ওড়না, চেয়ার সহ ডেকরেটরের সব সামগ্রী রাখা ছিল। সবই দাহ্য বস্তু। ফলে আগুন অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। জানা গিয়েছে, গঙ্গাধরের চার ছেলে। তারমধ্যে একজন আমেরিকায় ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি করেন। দু’জন কলকাতায় ব্যবসা দেখেন। ছোট ছেলে পড়াশোনা করে। খেজুরির বাড়িতে অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষিকা স্ত্রী কল্পনা দাস একাই থাকেন। ঘটনার পর থেকে খেজুরির বাড়িও বন্ধ রয়েছে।