নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে এসআইআর হয়রানি কমাতে আরও ৮০টি শুনানি টেবিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুমতি চাইলেন জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল। জেলায় মোট ৫লক্ষ ২৬হাজার ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ ভোটারকে কমিশন নোটিস পাঠিয়েছে। আগামী ৩১জানুয়ারির মধ্যে হিয়ারিং শেষ করার লক্ষ্যে এবং ভোটারদের হয়রানি কমাতে আরও ৮০টি টেবিলে শুনানির ব্যবস্থা করতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এজন্য সমসংখ্যক অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের (এইআরও) সংখ্যা বাড়াতে হবে। এই অনুমতি কেবলমাত্র ইলেকশন কমিশন থেকেই দেওয়া হয়। নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া, হলদিয়া ও মহিষাদল বিধানসভায় নোটিস প্রাপক ভোটারদের সংখ্যা বেশি। তাই ওইসব বিধানসভা কেন্দ্রে আরও বেশি করে শুনানির টেবিল বাড়ানো হবে।জেলাশাসক বলেন, মোট ৫ লক্ষ ২৬ হাজার ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। আরও ৮০টি শুনানির টেবিল বাড়ানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই টেবিল সংখ্যা বাড়বে।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামে ৪৮ হাজার, পাঁশকুড়ায় ৩৩ হাজার, মহিষাদলে ৩২ হাজার, হলদিয়ায় ৩৩ হাজার ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকে বিডিও অফিসের পাশাপাশি ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতেও শুনানি চলছে। ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাবা-মা, কিংবা দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে লিংক করার সময় অনেক ভোটারের নামের অমিল(মিসম্যাচ) ছিল। সেইসময় বুথ লেভেল অফিসাররা(বিএলও) ‘আন্ডারটেকেন’ দিয়ে লিংক করান। বিএলও অ্যাপ থেকে লিংক করানো সেইসব ভোটারও এখন নোটিস পাচ্ছেন।নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬৩নম্বর বুথের বিএলও সাবির মহম্মদ বলেন, আমার বুথে মোট ৮৯০জন ভোটার রয়েছেন। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি হিসাবে ৩৫১জন নোটিস পান। তারপর আমাদের তরফে আন্ডারটেকেন দিয়ে লিংক করানো আরও ৯০জন ভোটারের নোটিস এসেছে। এভাবে মোট ৪৪১ ভোটারের নামে নোটিস এসেছে। নন্দীগ্রাম-১ বিডিও নাজিরুদ্দিন সরকার বলেন, আমাদের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসেও এসআইআরের শুনানি চলছে।গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর পূর্ব মেদিনীপুরে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৯৩৬ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। মোট ৪২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৮ভোটারের মধ্যে মৃত, স্থানান্তর, ডুপ্লিকেট বাদ যাওয়ার পর ৪১ লক্ষ ৪১ হাজার ৪১২জনের নাম রয়েছে। তার মধ্যে ‘নন ম্যাপিং’ হিসাবে আগেই নোটিস পেয়েছেন ৪৬ হাজার ২৬২জন। ওইসব ভোটারের শুনানি শেষ হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে আরও ৫ লক্ষ ২৬ হাজারের কাছে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি হিসাবে নোটিস পৌঁছেছে। পাইকারিভাবে নোটিস পাঠানোর ঘটনায় বিএলও থেকে নোটিসপ্রাপক ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তুঙ্গে। এনিয়ে অবরোধ, বিক্ষোভ হয়েছে।আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে অধিকাংশ জায়গায় শুনানির কাজ শেষ করার টার্গেট নিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। তবে, নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া, মহিষাদল ও হলদিয়ায় ওই কাজ শেষ করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। দ্রুত শেষ করার জন্যই অতিরিক্ত শুনানি টেবিল জরুরি হয়ে পড়ছে।ভগবানপুর-১ ব্লকের ৪৩নম্বর মহম্মদপুর বুথের ভোটার প্রশান্ত মাজি ও তাঁর ভাই প্রতাপ মাজি এসআইআরের নোটিস পেয়েছেন। ২০০২ সালে তাঁদের বাবার নাম ছিল নারায়ণ মাজি। পরে নারায়ণচন্দ্র মাজি হয়। প্রতাপবাবু ও প্রশান্তবাবু বলেন, নাম সংশোধনের ফর্ম জমা করে বাবা নারায়ণ থেকে নারায়ণচন্দ্র হয়েছিলেন। এখন এধরনের ত্রুটির জন্য নোটিস পাঠানোর অর্থ হয়রানির মধ্যে ফেলা। প্রতীকী চিত্র।