• বাংলার মানুষের মনে বিষ ঢালছে বিজেপি: অনুব্রত
    বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ভোটার তালিকায় ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-এর নামে কি আসলে বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের ভোটারদের? মঙ্গলবার মহম্মদবাজারের কালিতলা মাঠের জনসভা থেকে সেই প্রশ্নই উসকে দিলেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। সাঁইথিয়া বিধানসভার অন্তর্গত মহম্মদবাজার ব্লকের ছ’টি অঞ্চলকে নিয়ে আয়োজিত এক জনসভা থেকে তাঁর হুঙ্কার— ‘এটা বাংলা, এখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া অত সহজ নয়।’এ দিন মঞ্চে অনুব্রতর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ, সাঁইথিয়ার বিধায়ক নীলাবতী সাহা এবং মহম্মদবাজার ব্লক সভাপতি তাপস সিনহা সহ স্থানীয় নেতৃত্ব। এর আগে রবিবার চন্দ্রপুরে এবং সোমবার দুবরাজপুরেও সভা করেন অনুব্রত। দুই জায়গাতেই তাঁকে রুপোর মুকুট উপহার দেন দলীয় সমর্থকরা। মঙ্গলবার মহম্মদবাজারে অনুব্রতকে রুপোর বাঁশি উপহার দেন ব্লক নেতৃত্ব। অনুব্রত শ্রীকৃষ্ণের মতো করে বাঁশি বাজানোরও চেষ্টা করেন।মহম্মদবাজারের কালিতলা মাঠে আয়োজিত এ দিনের সভায় অনুব্রতর বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির প্রসঙ্গ। বিজেপিকে বিঁধে তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়ার এক গভীর চক্রান্ত চলছে। মনে রাখবেন, অসমে মুসলিম বাদ দিতে গিয়ে বহু হিন্দুর নামও কিন্তু বাদ গিয়েছিল।’ এনআরসি ও অনুপ্রবেশকারী প্রসঙ্গে বিজেপির অপপ্রচারকে ধুয়ে দিয়ে তাঁর প্রশ্ন, ‘তোমরা বলেছিলে এখানে রোহিঙ্গা আছে, বাংলাদেশি আছে। কত গুলোকে খুঁজে পেলে? বাংলাকে শুধু শুধু বদনাম করার চেষ্টা হচ্ছে।’ পাইকরের সোনালী বিবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘জোর করে এদেশের অনেক নাগরিককে ও-পাড়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে তাঁদের কী ভয়ংকর অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে, তা ভাবা যায় না। এর পরেও কি মানুষ প্রতিবাদ করবে না?’ তাঁর তোপ, ‘বিজেপি বাংলার মানুষের মধ্যে বিষ ঢোকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই মাটি জাতপাত বিচার করে না, সবাই একসঙ্গে থাকতে চায়।’বাম আমলের ৩৪ বছরকে ‘কালো দিন’ বলে ব্যাখ্যা করে কেষ্টর মন্তব্য, ‘অন্ধকার থেকে বাংলাকে আলোয় ফিরিয়ে এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘরে ঘরে সেই উন্নয়নের আলো পৌঁছে গিয়েছে। বাম আমলে আমরা যে কালো দিন দেখেছি, আর যেন তা দেখতে না হয়।’ আগামী ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর কড়া নির্দেশ, উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখতে হলে ফের তৃণমূলকেই জেতাতে হবে। বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে সেই পুরনো অন্ধকার দিনগুলোকে ডেকে আনা। কেন্দ্রের টাকা আটকে রাখার প্রসঙ্গ তুলে অনুব্রত দাবি করেন, একশো দিনের কাজ বা আবাসের টাকা আটকে বাংলার ক্ষতি করা যায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিকল্প পথে সাধারণ মানুষের রুটিরুজি ও মাথার ছাদের ব্যবস্থা করছেন। তাঁর সংযোজন, ‘বাংলার মা-মাটি-মানুষের মুখ্যমন্ত্রী এই খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা ছুটে বেড়াচ্ছেন।’  মহম্মদবাজারের কালিতলা মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখছেন অনুব্রত মণ্ডল। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)