• কাঁথাস্টিচের কাজ শিখিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার পাঠ,সিউড়ির তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়ের পদ্মশ্রী প্রাপ্তিতে খুশির হাওয়া বীরভূমজুড়ে
    বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: নকশিকাঁথায় প্রান্তিক মানুষের জীবনগাথা বুনে চলেন। সেই তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়ের মুকুটে এবার জুড়ল দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাগরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’। ২০২৪সালে ভাদু গানের শিল্পী রতন কাহারের পদ্ম-প্রাপ্তির পর, ২০২৬-এ ফের সিউড়ির ঘরেই এল এই সম্মান। সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় সরকার পদ্ম-পুরস্কারের যে তালিকা প্রকাশ করেছে সেখানে শিল্প বিভাগে উজ্জ্বল উপস্থিতি বীরভূমের এই শিল্পীর।তৃপ্তিদেবীর শিল্পযাত্রার শুরুটা হয়েছিল খুব সাধারণভাবে। ছোটবেলায় মায়ের হাতের কাঁথাস্টিচের কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। শৌখিন নেশা যে একদিন পেশা হয়ে বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত হবে, তা সেদিন তিনি ভাবেননি। কিন্তু জেদ আর একাগ্রতা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে শিখরে। তাঁর তৈরি নকশিকাঁথায় কখনও ধরা দেয় বীরভূমের গ্রাম্য বধূর অলস দুপুর, কখনও আবার মূর্ত হয়ে ওঠে মহাভারতের কুরুক্ষেত্র বা কার্গিল যুদ্ধের বীরগাথা। পৌরাণিক চরিত্র থেকে আধুনিক সময়ের লড়াই, সূচ আর রঙিন সুতোর টানে তিনি কাপড়ের উপর গল্প লেখেন।তৃপ্তিদেবী এর আগেও নানা স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে এই পদ্মশ্রী যেন সব পরিশ্রমের শ্রেষ্ঠ ফসল। এর আগে তিনি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার তাঁকে ‘বঙ্গশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের দেওয়া দেশের সর্বোচ্চ কারুশিল্প সম্মান ‘শিল্পগুরু’ আগেই পেয়েছেন তিনি। তাছাড়া, বিশ্বের দরবারেও এই কাঁথাস্টিচকে তুলে ধরেছেন তিনি। একাধিকবার বিদেশে গিয়ে ভারতীয় শিল্পকলার প্রচারে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। পদ্মশ্রী প্রাপ্তির খবরে আপ্লুত শিল্পী বলেন, এই সম্মান আমার সারা জীবনের সাধনার স্বীকৃতি। আমি জানতাম, একদিন না একদিন এই পরিশ্রমের ফল পাব। আজ সত্যিই মনে হচ্ছে, আমার পরিশ্রম ও কাজ সার্থক।তৃপ্তিদেবী মনে করেন, শিল্প কেবল প্রদর্শনীর জন্য নয়, তা যেন প্রান্তিক মানুষের অন্নের সংস্থান করে। নিজে ব্যবসা চালানোর পাশাপাশি গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর করার ব্রত নিয়েছেন তিনি। তৃপ্তিদেবীর দাবি, নয়ের দশকে গ্রামে ঘুরে ঘুরে তিনি মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি মহিলাকে তিনি এই কাঁথাস্টিচের কাজ শিখিয়ে স্বনির্ভরতার পাঠ দিয়েছেন। বীরভূমের গ্রামগঞ্জ তো বটেই, দূর-দূরান্ত থেকে মহিলারা তাঁর কাছে আসেন কাজ শিখতে। বর্তমানে সরাসরি তাঁর তদারকিতে কাজ শিখছেন প্রায় ৪০০জন। শিল্পীর পরবর্তী লক্ষ্য, বীরভূমের পিছিয়ে পড়া আদিবাসী মেয়েদের এই শিল্পের পাঠ দেওয়া। তিনি বলেন, প্রথমে কাপড়ের উপর আঁকা শেখাই, তারপর সেলাই। আদিবাসী মেয়েরা এই কাজ শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলেই আমার আনন্দ।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)