• সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে ফোন বাড়ি পাচ্ছে ৬৪ হাজার
    বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাজ্যের বাসিন্দাদের কাছে মুশকিল আসান হয়ে উঠেছে ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’। নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করলেই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে। বহু পরিবারের মাথার উপর পাকাছাদ ছিল না। আবার আবাস যোজনা প্রকল্পেও তাঁদের নাম ঠাঁই পায়নি। দুশ্চিন্তায় থাকা পরিবারগুলি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে ফোন করেই পাকাবাড়ি পেতে চলেছে। পূর্ব বর্ধমানে বাড়ির জন্য ৬৮ হাজার মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে ফোন করেছিলেন। তাঁদের আবেদন খতিয়ে দেখার জন্য তালিকা জেলায় পাঠানো হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে চার হাজারের ঠিকানা আধিকারিকরা খুঁজে পাননি। বাকি ৬৪ হাজারের নথি নেওয়া হয়েছে। তা যাচাইয়ের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। পাকাবাড়ি না থাকলে তাঁরা প্রত্যেকেই ধাপে ধাপে বাড়ি পাবেন।জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে তালিকায় থাকা পরিবারগুলিকে প্রথম ধাপের টাকা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অনেকের বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে নাম থাকা পরিবারগুলির অ্যাকাউন্টেও টাকা ঢুকতে চলেছে। এছাড়া, যাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে ফোন করে আবেদন করেছিলেন, তাঁদেরও অনেকেই এই পর্যায়ে টাকা পাবেন।পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা ছিল বাংলার মানুষকে বিপাকে ফেলা। সেই কারণেই তারা আবাস যোজনা প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওদের ষড়যন্ত্র বানচাল করে দিয়েছেন। যাঁ঩রা মাটির বাড়িতে থাকতেন, তাঁদের সমস্যা দূর হতে চলেছে। অনেকেরই পাকাবাড়ি হয়ে গিয়েছে। অল্পকিছু সংখ্যক বাকি রয়েছেন। তাঁরাও বাড়ি পেতে চলেছেন। আধিকারিকদের দাবি, শুধু বাড়ি নয়, অনেকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে ফোন করে সহায়তা পেয়েছেন। বাড়ির জন্য যাঁরা ফোন করেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের আবেদন লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। পরে তা সংশ্লিষ্ট অফিসে পাঠানো হয়। আধিকারিকরা প্রথমে তাঁদের নথি খতিয়ে দেখেন। পরে গ্রামে গিয়ে সার্ভে করা হয়। যাঁরা সত্যিই মাটির বাড়িতে বাস করতেন, তাঁরা বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।যাঁদের নিজস্ব জমি বা জায়গা নেই, তাঁদের অনেকেই আবেদন করেছিলেন। তাঁদের পাট্টা দিয়ে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। প্রথম ধাপেও অনেক ভূমিহীন বাড়ি পেয়েছেন। তবে, এই প্রকল্পের টাকা অন্য কাজে খরচ করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই কিস্তিতে এই প্রকল্পে টাকা দেওয়া হবে। সেইমতো বাড়ি তৈরির কাজ করতে হবে। প্রকল্পের সুবিধা পেতে কোনও প্রভাবশালীকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, বাড়ির জন্য উপভোক্তাদের কাছ থেকে কেউ টাকা চাইলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপভোক্তারা অভিযোগ করলেই তা নিয়ে তদন্ত করা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)