সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস যেসব কেন্দ্রে কম মার্জিনে জয়ী হয়েছিল, সেখানে ‘সন্দেহজনক’ ভোটারের সংখ্যা বেশি। এমনকি, ওই বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ‘নো ম্যাপিং’ ভোটারের সংখ্যাও প্রচুর। এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে তৃণমূল। বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই কি ওই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের বিপাকে ফেলা হল? এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ মানতে রাজি নয়। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন সব জায়গায় একই নিয়মে কাজ করেছে। কোথাও বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য তারা কাজ করেনি।কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে নো ম্যাপিংয়ের সংখ্যা সব থেকে বেশি। এই বিধানসভা কেন্দ্রে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির সংখ্যা বেশি। বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ৮১০৫ ভোটে জয়ী হয়েছিল। অন্যান্য বিধানসভা কেন্দ্রর তুলনায় মার্জিন অনেকটাই কম ছিল। এখানে নো ম্যাপিং ভোটারের সংখ্যা ১২ হাজার ৭১০ জন। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির সংখ্যা ৩০ হাজার ৯২৫। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে বর্ধমানে সভা করতে এসে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব এই কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে যান।কালনা বিধানসভা কেন্দ্রে গত নির্বাচনে তৃণমূল ৭৪৭৮ ভোটে জয়ী হয়েছিল। এই বিধানসভা কেন্দ্রে সন্দেহজনক ভোটারের সংখ্যা ২২ হাজার ২২০ জন। নো ম্যাপিং রয়েছে ১০ হাজার ৪৬৫ জন। পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মার্জিন অনেকটাই কম ছিল। ৬৭০৬ ভোটে শাসক দল জয়ী হয়েছিল। এই বিধানসভা কেন্দ্রে ৩৫ হাজার ৩৬৮ জন সন্দেহজনক ভোটার হিসাবে নোটিস পেয়েছেন। ১০ হাজার ৯৬১ জন ভোটার নো ম্যাপিং হয়ে রয়েছেন। জেলার মধ্যে কেতুগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির সংখ্যা সবথেকে বেশি। ৪৭ হাজার ১১৫ জনকে সন্দেহজনক ভোটার হিসাবে নোটিস করা হয়েছে। ২০২১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল ১২ হাজার ৬৮৩ ভোটে জয়ী হয়েছিল।বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল রাজনৈতিক তাস খেলতে চেয়েছে। তাতে লাভ হবে না। সন্দেহজনক ভোটার চিহ্নিত করার জন্য কমিশন একটা পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। সেই ফর্মুলায় তাঁদের নাম এসেছ, তাঁদের নোটিস করা হয়েছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বাছাই করা বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বেশি সংখ্যায় নোটিস পাঠিয়েছে। ওরা ভাবছে, একটা অংশের ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিলে নির্বাচনে জিতে যাবে। আসলে ওরা মূর্খের স্বর্গে বসবাস করছে। ওরা যত এসব করবে, তত বেশি পিছিয়ে পড়বে। মানুষকে ওরা চরম হয়রানি করেছে। ইভিএম মেশিনে ওরা তার জবাব পাবে। সব জেলাতেই ওরা এটা করতে চেয়েছে।