• জগৎবল্লভপুরে মুদি দোকানের আড়ালে বাজি ও বাজির মশলা বিক্রি, ধৃত মালিক
    বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মুদি দোকানের আড়ালে নিষিদ্ধ বাজি ও বাজি তৈরির মশলা বিক্রির অভিযোগে দোকান মালিককে গ্রেপ্তার করল জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ। ধৃতের নাম মনোজিৎ প্রামাণিক। মঙ্গলবার সকালে জগৎবল্লভপুরের পাঁতিহাল হাটতলা এলাকায় ওই মুদিখানা দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বোমা ও বাজি তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে মুদিখানার ব্যবসা চললেও, তার আড়ালেই চলছিল বেআইনিভাবে বাজি ও বাজি তৈরির মশলা বিক্রির কারবার।পুলিশ জানিয়েছে, দোকানের পিছনের ঘর এবং গুদামে বস্তা ভরতি অবস্থায় গান পাউডার, পটাসিয়াম নাইট্রেট, কাঠকয়লা সহ একাধিক দাহ্য ও বিস্ফোরকের উপাদান মজুত ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এদিন সকালে সেখানে হানা দেন জগৎবল্লভপুর থানার আধিকারিকরা। তল্লাশি চালাতেই বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক সামগ্রী উদ্ধার হয়। এরপর দোকানের মালিক মনোজিৎ প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করা হয়। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই জগৎবল্লভপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাঠের ধারে, ঝোপঝাড়ে কিংবা পরিত্যক্ত জায়গা থেকে বস্তা ভরতি বোমা ও বাজি তৈরির মশলা উদ্ধার হচ্ছিল। কিন্তু সেই মশলার উৎস কোথায়, কারা সরবরাহ করছে, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য মিলছিল না। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এদিন ওই মুদি দোকানকে কেন্দ্র করে সূত্র মেলে এবং অভিযান চালানো হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই সব মশলা বিভিন্ন দুষ্কৃতী ও বেআইনি বাজি প্রস্তুতকারীদের কাছে সরবরাহ করা হত। স্থানীয় এলাকায় বোমাবাজি ও বেআইনি বাজি তৈরির ঘটনায় এই কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান তদন্তকারীদের। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রে আর কারা যুক্ত, কোথা থেকে কাঁচামাল আনা হত এবং কারা ক্রেতা, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এই প্রসঙ্গে ধৃত মনোজিৎ প্রামাণিক প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর দোকানে বাজি তৈরির কাঁচামাল বিক্রি করা হতো এবং ক্রেতারা সেগুলি নিয়ে গিয়ে মশলা তৈরি করে বাজি বানাতেন। এই কারবারে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
  • Link to this news (বর্তমান)