নতুন ভোগান্তির নাম হলফনামা, পঞ্চায়েত স্তরে শুনানির দাবি জোরদার
বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: এসআইআর কেন্দ্রিক ভোগান্তি চলছেই। চড়ছে ক্ষোভ। হয়রানির তালিকায় নতুন সংযোজন হলফনামা। আর এই হলফনামার জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকেই উলুবেড়িয়া আদালতের সামনে মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। বেলা যত বেড়েছে মানুষের লাইন দীর্ঘতর হয়েছে। উলুবেড়িয়া ১ নম্বর বিডিও অফিসেও এদিন মানুষের ভিড় লক্ষ করা যায়। শুনানিতে আসা মানুষকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দুটি জায়গাতেই হয়রানি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ। এদিকে, বালিতে শুনানি কেন্দ্রে যান ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ। শুনানিত যান তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ তথা তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।এসআইআর হেল্প ক্যাম্প ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায় আমতায়। প্রতিবাদে পথ অবরোধ করে বিজেপি। মঙ্গলবার বিকেলে বিজেপির পক্ষ থেকে ঝিখিরা-আমতা রাস্তা অবরোধ করা হয়। পুলিশ যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা পথ অবরোধ তুলে নেয়।মঙ্গলবার অ্যাম্বুলেন্সে চেপে বনগাঁর একটি শুনানি কেন্দ্রে আসেন এক অসুস্থ ব্যক্তি। বনগাঁ ব্লকের ঘাটবাওর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা জিন্না মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। তাঁকে বাড়ি থেকে বনগাঁ বিডিও অফিসে শুনানি কেন্দ্রে আনা হয়। বনগাঁ পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পাপাই রাহা এদিন শুনানি কেন্দ্রে আসেন। শুনানিতে হাজিরা দিয়েছেন বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্য নওশাদ আলম। হয়রানির প্রতিবাদে বাগদা বিডিও অফিসে ডেপুটেশন দিয়েছে সিপিএম। বিডিওর কাছে ৫ দফা দাবিতে ডেপুটেশন দেয় তারা। বনগাঁ বিডিওর কাছেও একাধিক দাবিতে ডেপুটেশন দেয় সিপিএম। এসআইআর শুনানি নিয়ে বন্দিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ক্ষোভ তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার অবাঞ্ছিত ঘটনা এড়াতে কড়া পুলিশ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।হুগলিতে ভোগান্তির অভিযোগ অব্যাহত। শুনানি প্রক্রিয়া সহজ করতে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে শুনানির দাবি উঠতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার হুগলির একাধিক ব্লক থেকে প্রশাসনের কাছে দাবি পেশ করা হয়েছে। এনিয়ে হুগলির সদর মহকুমা শাসকের কাছে দাবি রেখেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বলাগড়ের পঞ্চায়েত সদস্য বিশ্বজিৎ নাগ। তিনি বলেন, পূর্ব বর্ধমানে পঞ্চায়েত স্তরে শুনানি শুরু হয়েছে। বলাগড়ে প্রচুর মানুষ শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হেনস্তা হচ্ছেন তাঁরা। তাই শুনানির চাপ কমাতে কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করেছি। এদিকে, শুনানিতে পেশ করা নথির রসিদ এখনও প্রশাসন দিচ্ছে না। এমনই অভিযোগ তুলে জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছে হুগলির নাগরিক সংগঠন সিটিজেন্স ফোরাম। ফোরামের অভিযোগ, শীর্ষ আদালত ওই বিষয়ে নির্দেশিকা দিয়েছে। কিন্তু হুগলিতে তা মানা হচ্ছে না। এনিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রশাসনের কর্তারা অবশ্য কোনো বিবৃতি দিতে চাননি।