রাজপথে ধুলোয় পড়ে থাকা দুর্গামূর্তি পরিষ্কার করে বেড়ায় আলো‑ষষ্ঠীরা
বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজপথের ধারে ফাইবারের দুর্গামূর্তিটিকে বড় আপন মনে করে আলো দাস, ষষ্ঠী শর্মারা। দরদ দিয়ে মূর্তিটির গা থেকে ধুলোবালি পরিষ্কার করে। আলোর বয়স ১২, আর ষষ্ঠীর ১৫। ওদের ঝাড়পোঁছে দুর্গামূর্তিটি চকচক করে ওঠে। খুশির আনন্দে ভরে ওঠে ওদের চোখমুখ। তবে কেউ কেউ ওদের এই কাজ করতে দেখে হাসিঠাট্টাও করে। কিন্তু ওরা গায়ে মাখে না একদমই। আপন মনে কাজ করে যায়।উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরে রাজবল্লভ পাড়া থেকে কিছুটা এগলেই পড়ে মদনমোহনতলা স্ট্রিট। পথটি গিয়ে মিশেছে রবীন্দ্র সরণিতে। সেই মদনমোহনতলা স্ট্রিটের উপরই রয়েছে দুর্গামূর্তিটি। দশভূজা সেই মূর্তির দু’ধারে প্রদীপ হাতে রয়েছে দু’টি সখী মূর্তিও। রাতেও যাতে মূর্তিটি দেখা যায়, সেজন্য সেখানে রয়েছে নানা আলোর ব্যবস্থা। পাখির বিষ্ঠা যাতে মূর্তিটির গায়ে না পড়ে, তার জন্য তৈরি করে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ‘শেড’। কিন্তু রোজই ওই পথ দিয়ে প্রচুর যানবাহন যাতায়াত করে। ফলে ধুলোবালি ও যানবাহনের কালো ধোয়ার গ্রাস থেকে রক্ষা পায় না দুর্গামূর্তিটি। সেই ধুলোই সাফ করে বেড়ায় পথের ধারে অনাদারে থাকা আলোরা।আলো‑ষষ্ঠী‑গণেশরা জানাল, ওদের পড়াশোনা খুব একটা এগয়নি। রোজ সকাল থেকে ওরা বিভিন্ন অলিগলি, চলন্ত বাস কিংবা উত্তর কলকাতার গঙ্গার ধারে এসে বসা মানুষজনের কাছে ডট পেন ফেরি করে বেড়ায়। তা থেকে যে দু’পয়সা আসে, তা দিয়েই জুটে যায় নিজেদের খাবারটুকু। তবে তারা খুবই কম দামের পেন ফেরি করে। তাই বিক্রিবাট্টা খুব একটা ভালো হয় না, আক্ষেপ তাদের। আলো বলে, কখনও কখনও কেউ কেউ আমাদের সাহায্য করার জন্য দু’চারটি পেন একসঙ্গে কিনে নেন। সেদিন তারা দু’টো বাড়তি টাকা চোখে দেখতে পায়। তার কথায়, রোজ পথের ধারে থাকা ওই দুর্গামূর্তিকে প্রণাম করেই আমরা পেন বিক্রি করা শুরু করি।ষষ্ঠী শর্মা বলে, আমার পিসেমশাই দীপক সাউ আমাদের নানাভাবে সাহায্য করেন। দুর্গামূর্তিটি পরিষ্কার করার বিষয়েও তিনি আমাদের নানাভাবে উৎসাহ জুগিয়ে থাকেন। কথা হচ্ছিল ওই পথ দিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধ মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে। আলোদের দুর্গামূর্তি পরিষ্কার করতে দেখে দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য নামে অবসরপ্রাপ্ত ওই শিক্ষক বলেন, আলোদের জীবনটা আলোকময় হয়ে উঠুক, ভগবানের কাছে এই প্রার্থনা করি। নিজস্ব চিত্র