নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইএম বাইপাসের ধারে এক অভিজাত হোটেলে ইনডোর গেমস নিয়ে ঝামেলার জেরে কোটিপতি এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত অন্য এক ব্যবসায়ী। তবে তাঁকে মারধর ও তাঁর গলা থেকে সোনার চেন ছিনতাই করার পর বালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ‘অপহৃত’ ব্যবসায়ীর নাম অংশুমান সিং। আর যার বিরদ্ধে অভিযোগ, তিনি হলেন জুনেইদ খান। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে জুনেইদ খানকে গ্রেপ্তার করেছে বালিগঞ্জ থানা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অংশুমান ও জুনেইদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল। এক সময়ে দু’জনে যৌথভাবে শেয়ারের ব্যবসাও করতেন। মাঝেমধ্যেই অভিজাত হোটেলে ইনডোর গেমস খেলতেন তাঁরা। ১৮ জানুয়ারি দু’জনে বাইপাসের ধারে একটি পাঁচতারা হোটেলে যান। তাঁদের সঙ্গে আরও অনেকেই ছিলেন। সেখানে ইনডোর গেমস চলাকালীন পয়েন্ট নিয়ে গোলমাল বাঁধে দু’জনের। অংশুমান সিং প্রথমে পুলিশকে বলেন, বাইপাসের ওই হোটেল থেকে তাঁরা দু’জনেই একটি গাড়িতে ওঠেন। তারপর তাঁকে আচমকা মারধর করা হয়। গাড়ি বালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছে এলে তাঁর গলা থেকে সোনার হার ছিনতাই করে নেন জুনেইদ। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে ছিনতাই ও মারধরের কেস রুজু করে। শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় জুনেইদকে। এরমাঝে অংশুমান ফের থানায় গিয়ে অভিযোগ করে বলেন, তিনি ১৮ জানুয়ারি স্বেচ্ছায় বন্ধুর সঙ্গে গাড়িতে ওঠেননি। হোটেলে ঝামেলার পর তাঁকে মারতে মারতে বাইরে নিয়ে এসে জোর করে গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িতে ওই বন্ধু ছাড়াও আরও কয়েকজন ছিলেন। তাঁকে ‘অপহরণ’ করে নিয়ে আসা হয় বালিগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকায়। তাঁকে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি, গাড়ির মধ্যেও মারধর করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে পুলিশ অপহরণের ধারা যুক্ত করার জন্য আদালতের অনুমতি চায়। আদালত তা দেওয়ার পরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়।হেপাজত শেষে মঙ্গলবার জুনেইদকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্তের আইনজীবী অরিন্দম দাস বলেন, তাঁর মক্কেল কাউকে অপহরণ করেননি। আর অভিযোগকারী আগে অপহরণের অভিযোগ আনলেন না কেন? তাঁর মক্কেল বড় মাপের ব্যবসায়ী। তিনি সামান্য চেন ছিনতাই করতে যাবেন কেন? সরকারি আইনজীবী সৌরীন ঘোষাল বলেন, অভিযোগকারীকে যে অপহরণ করা হয়েছে, তার প্রমাণ আছে। ব্যবসায়ী প্রথমে ট্রমার মধ্যে থাকায় বিষয়টি জানাতে পারেননি। সওয়াল শেষে জুনেইদকে পুলিশ হেপাজতে পাঠায় আদালত।