‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ আদায় করে স্থানীয় উন্নয়নেই খরচ করছে কলকাতা পুরসভা
বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের কিছু অঞ্চলে এখনও রয়েছে কাঁচা রাস্তা। বহু ‘কমন প্যাসেজ’ রয়েছে এমন। কিন্তু এসব রাস্তার সিংহভাগের কোনো অস্তিত্ব নেই কলকাতা পুরসভার রেকর্ডে। এই ধরনের রাস্তার পাশে বাড়ি বানাতে গেলে ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ দিতে হয়। ২০২৪ সালের শেষের দিকে এই নিয়ম চালু করে পুরসভা। আর তাতেই এল সাফল্য! গত অর্থবর্ষের তুলনায় চলতি অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) এই খাতে ৪০ গুণ আয়বৃদ্ধি হয়েছে।নয়া নিয়মে বলা হয়েছে, কাঁচা রাস্তা বা এই ধরনের কমন প্যাসেজের ধারে বাড়ি তৈরির জন্য বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের সময় ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ দিতে হবে। এক্ষেত্রে এক কাঠা পর্যন্ত জমিতে প্রতি বর্গফুটে পাঁচ টাকা, এক কাঠা থেকে তিন কাঠা পর্যন্ত জমিতে প্রতি বর্গফুটে আট টাকা এবং তিন কাঠার বেশি জমিতে বাড়ি করতে গেলে প্রতি বর্গফুটে ১০ টাকা ফি ধার্য হয়। সমগ্র পুরসভা এলাকার জন্যই এই নিয়ম। তবে পুরসভা জানাচ্ছে, মূলত কলকাতার সংযুক্ত এলাকা অর্থাৎ যাদবপুর, কসবা, গরফা, মুকুন্দপুর, ই এম বাইপাস, বেহালা, জোকা, ঠাকুরপুকুর, গড়িয়া ইত্যাদি অঞ্চলে এই নিয়ম বেশি প্রযোজ্য হবে। কারণ, পুরসভার রেকর্ডে না থাকা রাস্তা বা প্যাসেজ এসব অঞ্চলেই বেশি। আগে শুধুমাত্র সংযুক্ত এলাকার জন্য এই নিয়ম লাগু থাকলেও এখন শহরের ১ থেকে ১৪৪টি ওয়ার্ডে এই নিয়ম প্রযোজ্য। ফলে আগের অর্থবর্ষে যেখানে এই খাতে মাত্র ৪৭ লক্ষ টাকা আয় হয়েছিল, সেখানে চলতি অর্থবর্ষে প্রায় ১৯ কোটি টাকা রাজস্ব ঘরে তুলেছে পুরসভা। আগামী দিনে এই খাতে আয় বৃদ্ধি আরও বাড়বে। যা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে উন্নয়ন ও পরিকাঠামোগত উন্নতিতে কাজে লাগানো যাবে।এক শীর্ষস্থানীয় পুরকর্তা বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায়, কোনো বড় জমি কয়েকটি প্লটে ভাগ করে বিক্রি করা হয়েছে। কোথাও আবার পুকুরপাড়ে তৈরি হয়েছে রাস্তা, যার কোনো তথ্য পুরসভার রেকর্ডে নেই। কোথাও আবার চাষের জমি বা ভরাট হয়ে যাওয়া জলাজমি প্লট করে বিক্রি করা হয়েছে। সেখানে একাধিক বাড়ি হলেও অনেক প্লট খালি পড়ে আছে। দু’দিকের বাড়ির মাঝে বেরিয়েছে কমন প্যাসেজ। এসব কাঁচা রাস্তা পাকা করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ আসে পুরসভার কাছে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় নিকাশি, পানীয় জল এবং আলোর ব্যবস্থাও করতে হয় পুরসভাকে। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা বা জায়গার অস্তিত্বই পাওয়া যাচ্ছে না পুরনথিতে। তখন আইনি জটিলতা তৈরি হয়। তাই এক্ষেত্রে পাকা রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি ইত্যাদি পুর-পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য এককালীন উন্নয়ন ফি চালু করা হয়।’ অফিসাররা আরও জানাচ্ছেন, এসব ক্ষেত্রে এতদিন অনুরোধ বা আবেদন এলে পুরসভা রাস্তা তৈরি করে দিত বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করত। তারপর পুরসভার রেকর্ডে ঠাঁই পেত সেই রাস্তা ও জমি। অনেক সময় সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ পুরসভাকে রাস্তার জন্য বরাদ্দ জমি দান করে দেয়। এবার থেকে এমন সব ক্ষেত্রে নাগরিকদের ‘ডেভেলপমেন্ট ফি’ গুণতে হচ্ছে। যে টাকা আসছে, সেই টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকাতেই পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করছে পুরসভা।