এই সময়: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের জয়ের কোনও সম্ভাবনাই নেই বলে মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। মঙ্গলবার নবান্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অখিলেশ যৌথভাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে অখিলেশ বলেন, ‘দিদির কাছে ইডি হেরেছে। এ বার বিজেপি হারবে। গোটা দেশে বিজেপির মোকাবিলা করতে পারেন একমাত্র দিদি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপিকে রুখতে তৈরি হয়েছিল ‘ইন্ডিয়া’ জোট। সেই জোটে থাকা কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীকে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকরা আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তা সত্ত্বেও ‘ইন্ডিয়া’ জোটে সেভাবে কোনও লাভ হয়নি। এ দিন অখিলেশের গলায় যেন প্রচ্ছন্ন হলেও সেই সুরই শোনা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন অখিলেশ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সপা নেতা তথা বাম আমলের প্রাক্তন মৎস্যমন্ত্রী কিরণময় নন্দ।
এ দিন অখিলেশের বক্তব্যে উঠে আসে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযান প্রসঙ্গ। তাঁর মন্তব্য, ‘দিদি ইডি-র থেকে পেনড্রাইভ নিয়ে নিয়েছেন। সেই পেন (যন্ত্রণা) বিজেপি ভুলতে পারছে না।’ অখিলেশের সংযোজন, ‘কমিশন যখন ভোটচুরি করছে, তখন দিদি ডিজিটাল ডাকাতি রুখে দিয়েছেন। দিদির সাহসকে কুর্নিশ জানাই।’ এ দিন পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় অখিলেশের মন্তব্যকে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘আগে তিনি উত্তরপ্রদেশ সামলান। এখানে এসে দিদির গুণগান করলে কে ভোট দেবে? নিজেদের দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখানে এসে বললে কে শুনবে?’
১২টি রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (সার) চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় রয়েছে অখিলেশের রাজ্য উত্তরপ্রদেশও। যেখানে প্রায় তিন কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তবে সমাজবাদী পার্টির প্রধানের দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করেই ‘সার’ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘এত দিন কমিশন কাজ করতো বেশি সংখ্যক মানুষ যাতে ভোটার হতে পারেন সেই লক্ষ্যে। এই প্রথম সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’
পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে কলকাতায় এসেছেন অখিলেশ। নবান্নে যাওয়ার আগে তিনি গিয়েছিলেন কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী তথা লোকসভার সাংসদ ডিম্পল যাদব এবং সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ তথা অভিনেত্রী জয়া বচ্চন। জয়া অবশ্য নবান্নে মমতার সঙ্গে বৈঠকে যাননি। যাননি ডিম্পলও।