• 'এখন চলবে কী করে'? পরিবারের প্রতিটা মুহূর্ত কাটছে উৎকণ্ঠায়
    এই সময় | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • দিগন্ত মান্না, পাঁশকুড়া

    রবিবার দুপুরেই মোবাইলে কথা হয়েছিল স্বামীর সঙ্গে। ভাইয়ের সঙ্গেও হাসি-ঠাট্টাও করেছিলেন বর্ণালী। কিন্তু সোমবার সকালে ঘটনা শোনার পরেই তাঁর মনে হচ্ছে স্বামী আর ভাইয়ের সঙ্গে ওই কথাগুলোই শেষ কথা নয় তো! ভাবতে গিয়ে বার বারই বুকে কেঁপে উঠছে তাঁর। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনও খোঁজ আসেনি স্বামী ও ভাইয়ের। পাঁশকুড়ার চৈতন্যপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন উপপ্রধান তপন দোলই ও তাঁর শ্যালক মাগুরি জগন্নাথচকের বাসিন্দা সমরেশ ফদিকারের পরিবারের প্রতিটা মুহূর্ত কাটছে উৎকণ্ঠায়।

    আবার তার মধ্যেও একটু আশা, 'কে জানে, যদি ফোন আসে! হয়তো ওপ্রান্ত থেকে বলবে আমরা ঠিক আছি। চিন্তা কোরো না'। দিশাহারা বর্ণালী বলেন, 'রবিবার দুপুরেই কথা হলো। আর রাতেই এই ঘটনা। ওরা বেঁচে আছে তো? না হলে কী ভাবে চলবে সংসারটা? বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে কী করব, কোথায় যাব?' একটু থেমে ফের বলেন, 'আমার বাবা রয়েছে। ভাইয়ের স্ত্রী ও ১১ মাসের একটা ছেলে রয়েছে। ওদেরই বা কী হবে?'

    ২০১৩ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত চৈতন্যপুর-১ পঞ্চায়েতে তৃণমূলের উপপ্রধান ছিলেন তপন। বাড়ি ওই এলাকার রাধাবন গ্রামে। পাঁচ বছর ধরে আনন্দপুরের গুদামে ফুলের কাজ করতেন তিনি। তপনের শ্যালক বছর চব্বিশের সমরেশও তাঁর সঙ্গে একই জায়গায় কাজ করতেন। ২০ জানুয়ারি সমরেশকে সঙ্গে নিয়ে তপন আনন্দপুরে রওনা দেন। বর্ণালীর এক ছেলে এবং এক মেয়ে। বাপের বাড়িতে একমাত্র রোজগেরে বলতে বড় ভাই সমরেশ। আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ পাঁশকুড়ার আরও চার জন।

    পূর্ব চিল্কার শ্রীকৃষ্ণ মাইতি, জয়দেব মাইতি, পশ্চিম চিল্কার প্রসেনজিৎ ঘড়া এবং চকগৌরাঙ্গ গ্রামের বাসুদেব বেরা। এ দিন প্রত্যেক নিখোঁজ শ্রমিকের বাড়িতে যান পাঁশকুড়ার বিডিও মোহন ভার্মা এবং আইসি রাহুল দেবনাথ। নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কলকাতা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রশাসনিক উদ্যোগে। বিডিও বলেন, 'নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যাতে আমরা আগামী দিনে যোগাযোগ করতে পারি।' এ দিন নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের তমলুক জেলা সভাপতি সুজিতকুমার রায়, পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিধায়ক প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম। সুজিত বলেন, 'রাজ্য সরকার শ্রমিক পরিবারগুলির পাশে রয়েছে।'

    নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি নেতৃত্বও। বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সিন্টু সেনাপতি বলেন, 'এই দুর্ঘটনার দায় রাজ্য সরকারের। আমরা পরিবারগুলির পাশে সব রকম সহযোগিতা নিয়ে আছি।' বর্ণালীর কথায়, 'সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাদের দুই পরিবারের দু'জনকে কোনও চাকরি দেওয়া হোক। না হলে সবাই না খেতে পেয়ে মারা যাব।'

  • Link to this news (এই সময়)