অয়ন ঘোষাল: মৃত্যুপুরী আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ১৬। ভস্মীভূত মোমোর গোডাউন থেকে রাতে আরও ৫টি মৃতদেহ উদ্ধার। আগেই ১১টি দেহ উদ্ধার হয়েছিল। পরে আরও ৫টি দগ্ধ এবং এখনও পর্যন্ত শনাক্ত না হওয়া দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর পুলিস সূত্রে। তবে দেহ বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই, শুধুই হাড়গোড়...বারুইপুর জেলা পুলিসের দাবি, ১৪ জনের পরিবার নিখোঁজের অভিযোগ জানিয়েছে। যদিও স্থানীয়দের দাবি, নিখোঁজ মোট ২৬ জন। ওদিকে এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবারই গ্রেফতার করা হয়েছে ডেকরেটারসের গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে। গড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। তাঁকে বারুইপুর থানাতে রাখা হয়েছে।
৫৯ বছর বয়সী গঙ্গাধর দাসের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরির পূর্বচড়া গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ডেকরেশনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। বছর ৪০-এর বেশি সময় ধরে তিনি ডেকরেশনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে। বিদেশ থেকে প্লাস্টিক ফুল নিয়ে আসা হত। ওই ফুল দিয়ে অনুষ্ঠান বাড়ি, সভা, সমিতির মঞ্চ-সহ অন্যান্য জায়গা সাজানোর কাজ হত। পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতার অদূরে আনন্দপুরেও গঙ্গাধর দাসের কারখানা ও গোডাউন ছিল। সেখানেই রবিবার রাতে ভয়াবহ আগুন লাগে। প্রথমে জেলায় টুকটাক ডেকরেশনের বরাত পেতেন। পরে ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়তে শুরু করে। প্রায় ১৩ বছর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতার আনন্দপুরেও এই গোডাউন চালু করেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই উধাও হয়ে যান গঙ্গাধর। তাঁর মোবাইল ফোনও টানা বন্ধ ছিল। তখন থেকেই গঙ্গাধরের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিস। মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে FIR-ও দায়ের হয়। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে গড়িয়ার এলাচি মোড় থেকে গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করে পুলিস।
যদিও পুলিসের কাছে জেরায় গঙ্গাধর দাসের দাবি, "মোমো তৈরির কারখানায় অবৈধভাবে কোল্ড ড্রিঙ্কস তৈরি হত। মোমো তৈরির কারখানায় মজুত দাহ্য পদার্থ থেকেই আগুন লাগে। আমার গোডাউনের পাশেই মোমোর গোডাউন ছিল। ওরা সব দাহ্য পদার্থ রাখত। ওরা লুকিয়ে CO2 দিয়ে কোল্ড ড্রিঙ্কস তৈরি করত। ওদের ওখান থেকে আগুন লাগে, পাশেই আমার গোডাউন, ওখানে লাগা আগুন আমার গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। আমার ৪-৫ কোটি টাকার জিনিস পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। আমার অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু কেউ ব্যবহার করার সময় পায়নি। সবাই ঘুমিয়ে ছিল। রাত ২টোয় আগুন লাগে। তাই ফায়ার এক্সটিংগুইশার থাকেলও সেটা কেউ ব্যবহার করতে পারেনি। সেটা এখনও সেখানে পড়ে রয়েছে।"
তবে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, ডেকরেটারসের গুদামে রান্না হচ্ছিল। মদ্যপান চলছিল। কোনও কারণে ধূমপান বা অন্য অসাবধানতার কারণে অথবা ইকমিক স্টোভ ফেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সেই আগুন আর আটকানো যায়নি। ডেকরেটারস কোম্পানির মালিক ও মোমো কোম্পানির মালিক, দুয়ের বিরুদ্ধেই গাফিলতির জেরে মৃত্যুর ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে একই অভিযোগ ও ধারায় আরেকটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করছে পুলিসও। মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করা হয়েছে।