• পঞ্চায়েত এলাকায় বেআইনি বহুতল নির্মাণ রুখতে কড়া নবান্ন, আসছে নতুন বিল্ডিং রুলস
    আনন্দবাজার | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • পঞ্চায়েত এলাকায় বেআইনি নির্মাণের রাশ টানতে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই গ্রামাঞ্চলের জন্য আলাদা করে নতুন বিল্ডিং রুলস চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন। রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরের তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যেই এই নীতির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। বর্তমানে সেই খসড়ার আর্থিক দিকগুলি মূল্যায়ন করছে অর্থ দফতর। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মূল্যায়নের কাজ প্রায় শেষের পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শীঘ্রই চূড়ান্ত রূপ পেতে চলেছে গ্রামীণ এলাকার নতুন বিল্ডিং রুলস।

    প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যে নতুন করে পঞ্চায়েত এলাকার জন্য বিল্ডিং রুলস তৈরির প্রয়োজন কেন পড়ল? প্রশাসনের মতে, পুরসভা ও পুরনিগম এলাকার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই নির্দিষ্ট ও বিস্তৃত বিল্ডিং রুলস চালু রয়েছে। কিন্তু পঞ্চায়েত এলাকায় সেই অর্থে কোনও একক, সুনির্দিষ্ট বিধি নেই। কিছু বিক্ষিপ্ত নিয়ম থাকলেও সেগুলির ভিত্তিতেই বর্তমানে বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে নিয়মের ফাঁক গলে গ্রামাঞ্চলেও বেআইনি নির্মাণের প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইচ্ছে মতো তৈরি করা হচ্ছে বেআইনি গগনচুম্বী বহুতল। এই পরিস্থিতি আঁচ করেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পঞ্চায়েত এলাকায় পৃথক ও স্পষ্ট বিল্ডিং রুলস তৈরির নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ শুরু করে পঞ্চায়েত দফতর। নীতি প্রণয়নের সময় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শহরের মতো গ্রামাঞ্চলেও সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত নির্মাণকাজের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।

    বর্তমানে পুর এলাকায় রাতের বেলা নির্মাণকাজ করতে হলে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। একই নিয়ম গ্রামাঞ্চলেও চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পরে পঞ্চায়েত এলাকায় কোনও নির্মাণকাজ করতে হলে বিশেষ অনুমোদন লাগবে এবং সেই অনুমতি দেওয়া হবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধি মেনেই। প্রশাসনের বক্তব্য, রাতের বেলায় নির্মাণকাজ হলে শব্দদূষণসহ বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা বাড়ে, যার ফলে আশপাশের বাসিন্দাদের ভোগান্তি চরমে ওঠে। পাশাপাশি, বেআইনি নির্মাণ রুখতেও এই নিয়ম কার্যকর ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে নজর এড়িয়ে অনুমোদন ছাড়াই বহুতলের একাংশ গড়ে ফেলা হয়। পরে সেই অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লেগে যায়। নতুন বিল্ডিং রুলস চালু হলে এমন অনিয়ম আগেভাগেই ঠেকানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদী প্রশাসনিক মহল।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)