• আতসকাচের নীচে অজিত পাওয়ারের বিমান? ২০২৩-এর ঘটনা ছাড়াও গোটা বিশ্বে ২০০ দুর্ঘটনায় জড়িত এই ফ্লাইট মডেল
    এই সময় | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • বুধবার সকালে মহারাষ্ট্রের বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হলো উপমুখ্যমন্ত্রী এবং জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির (NCP) প্রধান অজিত পাওয়ারের। মৃত্যু হয়েছে তাঁর সঙ্গে থাকা দুই ক্রু-সহ আরও তিন জনের। এই দুর্ঘটনার পরেই স্ক্যানারের নীচে অজিত পাওয়ারের বিমান। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালেই দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিল বিমানটি। এ ছাড়া গোটা বিশ্বে প্রায় ২০০টিরও বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে এই মডেলের বিমানে।

    জানা গিয়েছে, এ দিন মুম্বই থেকে বারামতিতে জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। তাঁর জন্য ভিএসআর ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে অত্যাধুনিক, Learjet 45 এক্সআর মডেলের বম্বার্ডিয়ার বিমানটি ভাড়া নেওয়া হয়। মাঝারি মাপের বিলাসবহুল বিমানটিতে নয়টি আসন থাকে। ডবল ইঞ্জিনের এই বিমানটি ৫১ হাজার ফুট পর্যন্ত উড়তে সক্ষম। ওজন ৯,৭৫২ কেজি। Learjet 45 এর সর্বোচ্চ গতি প্রায় ঘণ্টায় ৮৬০ কিলোমিটার। এই বিমানের কেবিনের অভ্যন্তরের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট। এতে ওয়াই-ফাই এবং স্যাটেলাইট ফোনের সংযোগ-সহ আধুনিক সমস্ত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। শুধু রাজনীতিবিদরাই নন, দেশের বহু ভিআইপি এই মডেলের প্রাইভেট বিমান ব্যবহার করেন।

    জানা গিয়েছে,ক্যানাডিয়ান ব্যবসায়ী উইলিয়াম পাওয়েল লিয়ারের প্রতিষ্ঠিত লিয়ারজেট কোম্পানি ১৯৯৫ সালে প্রথম এই মডেলের বিমান তৈরি শুরু করে। বর্তমানে লিয়ারজেট ৪৫ ক্যানাডার বোম্বার্ডিয়ার অ্যারোস্পেসের মালিকানাধীন। হঠাৎই ২০০৩ সালে এই বিমানকে ভারতের আকাশে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।

    আসলে সেই সময়ে এই মডেলের বিমানে একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটি নজরে পড়েছিল। এ ছাড়া একাধিক বার মাঝআকাশে উইন্ড শিল্ডে চিড় ধরার ঘটনাও নজরে আসে। এই সব ত্রুটির কারণে এই Learjet 45-এর ব্যবহার সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। পরে মডেলে বেশ কিছু পরিবর্তন করার পরে ফের এর ব্যবহার শুরু হয়। যদিও ২০২১ সালে লিয়ারজেট সিরিজের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তবুও ব্যবসায়িক ক্ষেত্র থেকে কম দূরত্বের উড়ানে এখনও এই মডেলের ফ্লাইটই বহুল ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এই Learjet 45 এক্সআর মডেলের বিমানটি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময়ে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে ক্ষীণ দৃশ্যমানতার কারণে রানওয়ে থেকে পিছলে যায়। এই সংঘর্ষের ফলে বিমানটি দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। তবে তড়িঘড়ি সে বার সমস্ত আরোহীদের বিমান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এই ক্র্যাশের ফলে সকলেই আহত হন। তবে যাত্রী এবং পাইলট-ইন-কমান্ডকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। সহ-পাইলটের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। সে দিন বিশাখাপত্তনম থেকে ফিরছিল বিমানটি। ২০২৩-এর দুর্ঘটনা ছাড়াও গোটা বিশ্বে এই বিমান মডেলটি ২০০ বারেরও বেশি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বলে খবর। সিংহভাগ ক্ষেত্রে অবতরণের সময়েই ঘটেছে দুর্ঘটনা।

    এদিন সকাল ৮টা ১০ নাগাদ মুম্বই এয়ারপোর্ট থেকে অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচজনকে নিয়ে টেকঅফ করে বিমানটি। অজিত পাওয়ার ছাড়া বিমানে ছিলেন আরও চার জন। তাঁরা হলেন বিদীপ যাদব (দেহরক্ষী), পিঙ্কি মালি (কেবিন ক্রু), সুমিত কাপুর (ক্যাপ্টেন) এবং সম্ভাবি পাঠক (ক্যাপ্টেন)। জানা গিয়েছে, ইমারজেন্সি অবতরণের অনুমতি চান পাইলট। অবতরণের সময়ে ৮.৪৫ মিনিটে আচমকাই রেডার থেকে হারিয়ে যায় বিমানটি। এর পরে মে ডে কল করেন পাইলট। তার পরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে বারামতিতে।

    আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার পরে DGCA উড়ানের ক্ষেত্রে নিয়মে বেশ কিছু কড়াকড়ি করেছে। প্রতিটি বিমান সফরের আগে প্রতিটা যান্ত্রিক দিক খতিয়ে দেখা হয়। ইঞ্জিনিয়ারদের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেই উড়ানের অনুমতি পাওয়ার পরেই টেকঅফ করতে পারবে বিমান। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর মতো ভিভিআইপি-এর সফরের আগে সমস্ত প্রোটোকল মেনে বিমানটি চেক করা হয়েছিল কি না তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিমান দুর্ঘটনা উস্কে দিয়েছে গত বছরের জুন মাসে আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া বোয়িংয়ের ক্র্যাশের স্মৃতি।

  • Link to this news (এই সময়)