• ‘একটাও ইট পুঁতেছেন?’, বিজেপিকে নিশানা, সিঙ্গুরের মাটি ছুঁয়ে SIR-এর প্রতিবাদ দিল্লির বুকে নিয়ে যাওয়ার বার্তা মমতার
    এই সময় | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • শিল্পায়নের বার্তা দেওয়ার হাওয়া তোলা হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় সিঙ্গুরে আশানুরূপ কোনও ঘোষণা হয়নি, দাবি করেছিল তৃণমূল। দশ দিনের মাথায় জোড়া ‘উপহার’ নিয়ে মমতা হাজির হলেন সেই সিঙ্গুরেই। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধনের পাশাপাশি বুধবার সিঙ্গুরের সভা থেকে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের পরবর্তী কিস্তির টাকা দেওয়ার ঘোষণাও করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে প্রায় ৪০ মিনিটের বক্তৃতায় মমতার নিশানায় ছিল SIR। আজই দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। তবে এ দিন মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, ‘আজ না হলে কাল তো আমি যাবই দিল্লি। মানুষের অধিকার কেড়ে নেবেন, আমি চুপ করে বসে থাকব না। দরকারে কোর্টে আমিও যাব। আইনজীবী হয়ে নয়, সাধারাণ মানুষ হিসেবে। সব ডকুমেন্ট রেখে দিয়েছি।’ দিল্লি যাওয়ার আগে রাজ্যের পালাবদলের ‘ভরকেন্দ্র’ সিঙ্গুরের মাটি ছুঁয়ে গেলেন বলেও এ দিন বার্তা দেন মমতা।

    সিঙ্গুরে নিশানা বিজেপিকে

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে টাটা-র কারখানার অধিকৃত জমির একটি অংশেই সভা করেছিল বিজেপি। নির্দিষ্ট কোনও ঘোষণা না হলেও প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছিলে বাংলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কটাক্ষ। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বিনিয়োগ তখনই আসবে, যখন আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকবে।’ পাল্টা মমতা এ দিন বলেন, ‘সিঙ্গুরের কৃষিজমি চাষিদের ফেরানোর জন্য জীবন বাজি রেখেছিলাম। ২৬ দিন অনশন করেছিলাম। আরও কয়েকদিন করতে পারতাম। তোমরা সিঙ্গুরে এসে শুধু আমায় গালাগাল দিয়েছ। তোমরা কী করেছ? একটাও ইট পুঁতেছ?’

    ‘আই ডোন্ট কেয়ার’

    সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানার দিনে সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে নিজে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলেছেন মমতা। কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, ‘আমাকে তোমরা ঘেঁচু করবে। তুমি আমায় জেলে ভরো, গুলি করো, আই ডোন্ট কেয়ার। আমায় জেলে ভরলে বাংলার মায়েরা জবাব দেবে। আমার কৃষক-শ্রমিকরা জবাব দেবে।’

    বাংলার বাড়ি ঘোষণা

    বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘোষণা করা হয় এ দিনের অনুষ্ঠানে। এই পর্যায়ে রাজ্যের ২০ লক্ষ পরিবার উপকৃত হবে। বাড়ি তৈরির জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এই পর্বে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মোট খরচ হবে ২৪,০০০ কোটি টাকা। দু'টি পর্যায় মিলিয়ে বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ) প্রকল্পে মোট উপকৃতের সংখ্যা ৩২ লক্ষ গ্রামীণ পরিবার। মোট খরচ ৩৮,৪০০ কোটি টাকা। মমতা বলেন, ‘দু’মাসে ৩২ লক্ষ পরিবারকে বাড়ির টাকা দেওয়া হবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেই বাড়ির জন্য ইঁট পুঁতবেন। আমি চাই না কেউ কষ্টে থাকুক। সকলের মাথায় ছাদ থাকুক।’

    SIR নিয়ে অভয়বাণী

    ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই একের এক BLO এবং সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবর এসেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। মমতা যে দিল্লি সফর করছেন SIR নিয়ে প্রতিবাদকে জাতীয় স্তরে পৌঁছতে, সেটা এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন। পাশাপাশি জনসাধারণকে আশ্বাস দিয়ে মমতা বলেন, ‘চিন্তা করে শরীর খারাপ করবেন না। আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন না। ওরা যখন ডাকছে, যান। এটা বাংলা, এখানে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। ওদের এই অহঙ্কার ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)