আজকাল ওয়েবডেস্ক: আনন্দপুরের নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ড মামলায় গ্রেপ্তার করা হল ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী গঙ্গাধর দাস (৫৯)। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার অন্তর্গত পূর্বচড়া গ্রামে। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেকোরেটার্সের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
বিদেশ থেকে প্লাস্টিক ফুল আমদানি করে সেই ফুল দিয়ে অনুষ্ঠান বাড়ি, সভা, সমিতির মঞ্চ সহ বিভিন্ন জায়গা সাজানোর কাজ করতেন গঙ্গাধর দাস। প্রথমদিকে জেলার মধ্যেই ছোটখাটো ডেকোরেশনের বরাত পেতেন তিনি। ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়।
প্রায় ১৩ বছর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতার অদূরে খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদ এলাকায় কারখানা ও গোডাউন চালু করেন গঙ্গাধর দাস। সেই গোডাউনেই রবিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উধাও হয়ে যান গঙ্গাধর দাস। তাঁর মোবাইল ফোনও দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের সুপার শুভেন্দ্র কুমার। তিনি জানান, গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
প্রসঙ্গত, আনন্দপুরে জোড়া গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মঙ্গলবার আরও পাঁচ জনের দেহাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
আজ ময়নাতদন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে নিখোঁজ এখনও ১৫ জন। উদ্ধারকাজ চালু রয়েছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা এখনও হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলের আশপাশে উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মৃতদের পরিবারের জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।