সিঙ্গুর নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। দু'দশক পর এই সিঙ্গুরের মাটিতে হয়ে গেল দুটি হাই-ভোল্টেজ সভা। ১০ দিন আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ১০ দিন পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গ বিজেপি সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রধানমন্ত্রী নীরবই থেকেছেন। মমতার মুখ থেকে শিল্পের আশা থাকলেও তা উহ্যই থেকে গেল। বরং উঠে এল বিজেপি তরজা। মোদী ও শাহকে আক্রমণ, এসআইআর প্রসঙ্গ।
আসন্ন নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, "আপনাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেবে। প্রাইভেট কোম্পানির লোক বসে আছে। ভুলেও তাতে হাত দেবেন না, ফাঁসিয়ে দেবে। ভোটের আগে বিহারে বলেছে ১০ হাজার টাকা দেবে। দিয়েছে কী? মনে রাখবেন, চিন্তা করে শরীর খারাপ করবেন না। আত্মহত্যা করবেন না। এটা বাংলা। কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠাতে দেব না।"
শুধু তাই নয়, SIR প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, "আমি প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করি, আপনার স্ত্রীর টাইটেল কী? বাংলার মেয়েরা বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি যায়। পদবি পালটে যায়। তাই বলে এসআইআরে ডাকবে। আমাকে জেলে ভর, গুলি কর, আই ডোন্ট কেয়ার। আমাকে জেলে দিলে মা-বোনেরা জবাব দেবে। কৃষকেরা জবাব দেবে।"
কেন্দ্র তথা বিজেপিকে তোপ দেগে মমতা বলেন, "আগে মানুষ হন। মানবিক হন। সিঙ্গুরে আমি ২৬ দিন অনশন করেছি। তোমরা কী করেছ, একটা ইট কি পুঁতেছ?"
আজ দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার দুর্ঘটনায় মৃত্যুতে দিল্লি যাননি। এ প্রসঙ্গে আজ বলেন, "আজ নয়, কাল যাবই। আপনারা মানুষের অধিকার কাড়বেন। হতে দেব না। দরকারে আমি কোর্টে যাব। আমাদের এক বিধায়ক বলছিল, মুসলিম বলে ডেকে পাঠিয়েছে। শশীকে ডেকেছে। জয় গোস্বামীকে ডেকেছে। বিনয়-বাদল-দীনেশকে মনে রাখবেন। লুঠেরাদের পার্টি, ঝুটেরাদের পার্টি। ছেড়ে দেব না। চলবে না অন্যায়। অপেক্ষা কর।"
এদিন সিঙ্গুরের সভা থেকেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানেরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।