বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ গোটা রাজনৈতিক মহল। শোকপ্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে তিনি গোটা ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একেইসঙ্গে তিনি বড়সড় ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে হোক অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত। ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রের অপর উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ঘোষণা করেছেন, এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত হবে। DGCA-ও জানিয়েছে, উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে তদন্ত হবে বরামতি প্লেন ক্র্যাশের। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুর্ঘটনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। দেশের মানুষের কোনও নিরাপত্তা নেই, এমনকী রাজনৈতিক দলের নেতারাও নিরাপদ নন। আমি জানি না এ দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কপালে কী রয়েছে, তবে অজিত পাওয়ারজি তো শাসকদলের জোটেই ছিলেন।' এরপরই মমতার সংযোজন, 'যদিও আমি কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জানতে পেরেছিলাম অজিত পাওয়ারজি নাকি সম্প্রতি BJP জোট ছেড়ে আসতে চেয়েছিলেন। অন্য একটি পার্টির নেতা এই স্টেটমেন্ট চেয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি শাসকদলের জোটে ছিলেন কিন্তু বলা তো যায় না, তিনি হয়তো নিজের আসল দলে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন।'
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত চেয়েছেন। তিনি বলেন, 'একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানেই যেন এই ঘটনার তদন্ত হয়। কোনও মতেই যেন অন্য কোনও এজেন্সি এই তদন্ত না করে। আমাদের অন্য কোনও তদন্তের উপর আস্থা নেই। সব এজেন্সি কেনা।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, 'DGCA-র উপর ভাল করে নজর দেওয়া উচিত। এত কেন দুর্ঘটনা ঘটছে? এনাফ ইজ এনাফ! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তো বিমানে যাতায়াত করেন। কম সময়ে সফর করার জন্য বিমান পথে যেতেই হয়। রাজ্যপালেরাও যান বিমানে। সুরক্ষার বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে।'
এদিকে জানা যাচ্ছে, অজিত পাওয়ারের বিমানটি মূলত ঘন কুয়াশা এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওযার কারণেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। তাঁর ঘড়ি এবং জামাকাপড় থেকে দেহ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।