• বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত মারাঠা ভূমের অজিত ‘দাদা’
    বর্তমান | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • মুম্বই, ২৮ জানুয়ারি: প্রায় তিনদশকের বেশি রাজনৈতিক জীবন। সাংসদ থেকে বিধায়ক সামলেছেন সব পদই। তাঁকে কেন্দ্র করে একাধিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিলেন অজিত পাওয়ার। লোকে তাঁকে ডাকতেন অজিত ‘দাদা’ বলে। আজ, বুধবার বারামতিতে প্রাইভেট বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ারের(৬৬)। যাকে কেন্দ্র করে মারাঠা ভূমে তথা গোটা দেশে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। রাজনৈতিক মহলে একজন কড়া প্রশাসক হিসাবে পরিচিত ছিলেন অজিত পাওয়ার। কোনও কাজ পড়ে থাকা পছন্দ ছিল না তাঁর। জননেতা হিসাবে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল মহারাষ্ট্রে। সেই অজিত ‘দাদা’ আর নেই।১৯৫৯-এর ২২ জুলাই মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে জন্ম। বাবা অনন্তরাও পাওয়ার কাজ করতেন রাজ কাপুরের স্টুডিওতে। কলেজে থাকাকালীন বাবার মৃত্যু হয়, ফলে পরিবারে তীব্র অর্থসংকট দেখা দেয়। বাধ্য হয়েই মাঝপথে পড়াশুনা থামিয়ে কাজে যোগ দেন অজিত। ১৯৯১ সালে বারামতি লোকসভা আসনে জয়ী হয়ে সাংসদ হন অজিত পাওয়ার। পরে সেই আসন নিজের কাকা শারদ পাওয়ারের জন্য ছেড়ে দেন তিনি। ১৯৯১ সালে উপ নির্বাচনে জিতে বিধায়ক হন অজিত পাওয়ার। তারপর থেকে টানা সাতবারের জন্য বিধায়ক পদে ভোটে জেতেন তিনি। শুধুই বিধায়ক নন, মহারাষ্ট্রের একাধিক মুখ্যমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন অজিত। সামলেছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। সেচ, বিদ্যুৎ, পরিকল্পনার মতো দপ্তর সামলেছেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে অজিত পাওয়ার জড়িয়েছেন বহু বিতর্কে। তবুও দক্ষ মন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের ২৩ নভেম্বর কাকা শারদ পাওয়ারকে ‘ঠকিয়ে’ দেবেন্দ্র ফড়ণবিশের সঙ্গে হাত মেলান অজিত। হন মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী। যদিও শারদ পাওয়ারের চাণক্য নীতির জন্য ঘরওয়াপসি হয়েছিল অজিতের। তবে কাকার ছত্রছায়া থেকে বেরোতেই ২০২৩ সালে এনসিপি দলই ভেঙে দেন তিনি। মত রাজনৈতিক মহলের। প্রফুল প্যাটেলকে সঙ্গে নিয়ে এনসিপি দল দুভাগে ভাগ করে দেন অজিত। এমনকি দলের প্রতীক ও নামও নিজের কাছে জোর করে রেখে দেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশও তাঁর পক্ষেই যায়।তবে সদ্য সমাপ্ত মহারাষ্ট্রের পুরসভার নির্বাচনে ফের একবার কাছাকাছি আসতে শুরু করে কাকা-ভাইপো। কয়েকটি পুরসভায় শাসক দল নয়, কাকা শারদ পাওয়ারের দলের সঙ্গে জোট বাঁধেন অজিত। যদিও আশানরূপ ফল হয়নি। আর কিছুদিনের মধ্যেই ছিল মহারাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত ও জেলা পরিষদের নির্বাচন। তার প্রচারে যাওয়ার পথেই বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যু হল অজিত ‘দাদা’র।   
  • Link to this news (বর্তমান)