এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক গাফিলতির অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এমন একটি গুদামে এত সংখ্যক শ্রমিক কাজ করছিলেন যেখানে কোনও অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। অভিযোগ, জরুরি অবস্থায় বাইরে বেরোনোর মতো উপযুক্ত কোনও পথও ছিল না।
জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার অন্তর্গত পূর্বচড়া গ্রামের বাসিন্দা গঙ্গাধর দাস দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডেকরেটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। প্রথমদিকে স্থানীয় অনুষ্ঠান ও সামাজিক কর্মসূচিতে সাজসজ্জার কাজ করতেন তিনি। প্লাস্টিক ফুল ও অন্যান্য সাজসজ্জার সামগ্রী ব্যবহার করেই চলত তাঁর ব্যবসা। পরবর্তী সময়ে বিদেশ থেকে ডেকরেশনের বিভিন্ন উপকরণ আমদানি করে ব্যবসার পরিসর বাড়ান তিনি। ধীরে ধীরে সেই ব্যবসা লাভজনক হয়ে ওঠে।
এই ব্যবসার সূত্রেই কলকাতার উপকণ্ঠে নাজিরাবাদ এলাকায় গুদাম ও কারখানা স্থাপন করেন গঙ্গাধর দাস। সেই গুদামই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। গঙ্গাধর দাস গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তাঁর দাবি, মোমো কারখানার নির্মাণগত ত্রুটির কারণেই আগুন ছড়ায় এবং এই ঘটনায় তাঁরও বিপুল ক্ষতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, রবিবার গভীর রাতে আচমকা আগুন লাগে সংলগ্ন ডেকরেটার্সের গুদামে।মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে মোমো কারখানায়। তেল, গ্যাস ও দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকার কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়। এই ঘটনায় মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। একথা জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
দেহ বা দেহাংশের শনাক্তকরণ হলেই পরিবারের হাতে চেক তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার। কারখানার কোনও অনুমোদন ছিল না বলে জানিয়েছেন দমকলের ডিজি। সেই কথাই কার্যত স্বীকার করে নেন দমকলমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘প্রচুর জায়গায় প্রচুর কারখানা রয়েছে। অনেকে লাইসেন্স নিয়ে করছেন, অনেকে বেআইনিভাবে করছেন।
এখনই বলতে পারব না, ওদের কাছে কী কাগজপত্র ছিল। যদি বেআইনিভাবে হয়ে থাকে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘ ঘটনার দেড়দিন পর কারখানার সুপারভাইজার ঘটনাস্থলে হাজির হন। তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘এখানে বেআইনি কিছু হচ্ছিল না।‘ দমকলের ডিজি জানিয়েছিলেন অনুমতি ছাড়া কারখানা চলছিল। সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনও জবাব দিতে পারেননি কারখানার সুপারভাইজার।