• ঘরে রক্তের বন্যা, কাটা গলায় এলোমেলো লুটিয়ে দুই মেয়ে আর মা! মানিকের শরীরও... ত্রাসে মৌন মুর্শিদাবাদ...
    ২৪ ঘন্টা | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • সোমা মাইতি: মুর্শিবাদবাদে মর্মান্তিক ঘটনা। একই পরিবারের চার জনের মৃতদেহ উদ্ধার। এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য। জানা গিয়েছে, দুই মেয়ে এবং মায়ের গলার নলি কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এবং বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায়। প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রী এবং দুই মেয়েকে খুন করে আত্মঘাতী হয় স্বামী। হাড়হিম ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার কুছিবাড়ি এলাকায়। পুলিস দরজা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করে।

    পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত স্বামী পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী। প্রায় ১০ মাস আগে দুই মেয়ে, স্ত্রীকে নিয়ে ওই এলাকায় ভাড়া বাড়িতে আসে মানিক ব্যাপার। প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জেরেই এই খুন। আরও জানা গিয়েছে, মৃত পরিবারটি আসল বাড়ি নদীয়ায়। কর্মসূত্রে তারা এখানে এসেছিলেন। 

    বুধবার সকাল থেকে বাড়ি থেকে তীব্র পচা দুর্গন্ধ আসতে থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তারাই খবর দেয় পুলিসকে। পুলিস দরজা ভেঙে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধারর করে। পুলিস জানায়, ঘরে ভিতর রক্তের দাগ শুকিয়ে মাটি আঁকড়ে ধরে। মৃত দুই কন্যা সন্তান ১৫ বয়সের তানহা ব্যাপারী ও ছয় বছরের মায়েশা। তবে ঠিক কী কারণে এই হাড়হিম কাণ্ড, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর জানা যাবে। ঘটনার তদন্তে ভগবানগোলা থানার পুলিস।

    অন্যদিকে, মেয়ের বাড়িতে সন্ধ্যাবাতি দিতে গিয়ে জামাইয়ের হাতে খুন হন শ্বশুর। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হিলি থানার বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বুধবার দুপুরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিস। অভিযুক্ত জামাইয়ের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে হিলি থানার পুলিস। মৃতের নাম নরেশ সরকার (৭৫), বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেয়ের বাড়িতে সন্ধ্যাবাতি দিতে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই বাঁশ দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করে জামাই। গুরুতর জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নরেশবাবু। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে হিলি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

    ঘটনার পরেই হিলি থানায় অভিযুক্ত জামাইয়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম নেপাল মহন্ত (৩২), বাড়ি ১ নম্বর হিলি গ্রাম পঞ্চায়েতের উজাল গ্রামে। প্রায় এক বছর আগে নরেশ সরকারের মেয়ে শেফালি রায়ের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছিল নেপালের। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে প্রায়শই অশান্তি লেগে থাকত। পারিবারিক বিবাদের জেরেই শ্বশুরের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অনুমান পরিবারের সদস্যদের। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)