• 'তুমি আমাকে জেলে ভরে গুলি করো, আমি পরোয়া করি না!', দিল্লি যাওয়ার আগে সিঙ্গুরে রণংদেহী মমতা...
    ২৪ ঘন্টা | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘন্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'তুমি আমাকে জেলে ভরে গুলি করো, আমি পরোয়া করি না'।  দিল্লি যাওয়ার আগে রণংদেহি মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে হুঁশিয়ারি,  ‘তোমরা বাংলাকে দেখোনি। বাংলা যদি জবাব দেওয়া শুরু করে ক্ষমতা নেই তোমাদের। আমাকে তোমরা ঘেঁচু করবে। আমি জেলে গেলে মায়েরা জবাব দেবে। কৃষক-শ্রমিকেরা জবাব দেবে'।

    আজ, বুধবারই দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। আপাতত সেই  সফর স্থগিত।  এদিন সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আজ না হলে কাল তো আমি যাবই দিল্লি। দরকারে কোর্টে আমিও যাব। আইনজীবী হয়ে নয়, সাধারাণ মানুষ হিসাবে। সব ডকুমেন্ট রেখে দিয়েছি। জ্যান্ত মানুষকে মৃত বানাচ্ছেন'! তাঁর কথায়,  ‘আমি কিন্তু জীবন দিয়ে লড়াই করি। অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি সিপিএম আমলে। বিজেপি গত ১০ বছর ধরে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাচ্ছে। আমাদের উন্নয়ন দেখছে, আর লুচির মতো ফুলছে'।

    ছাব্বিশের আগে SIR নিয়ে উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'ওরা ঔদ্ধত্য দেখাচ্ছে। অহঙ্কার দেখাচ্ছে। সব অহঙ্কার ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করব। হিন্দু-হিন্দু করে হিন্দুদের মারছে।  এসআইআর আতঙ্কে অনেক হিন্দুও মারা গিয়েছেন'। সঙ্গে বার্তা, 'চিন্তা করে নিজের শরীর খারাপ করবেন না। আত্মহত্যা করবেন না। এটা বাংলা। ডাকছে ডাকুক। যাবেন। এটা বাংলা। এখানে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না'।

    এদিকে দিন কয়েক আগে সিঙ্গুরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, বিজেপির জন্য়ই ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পেয়েছে বাংলা। মুখ্যমন্ত্রীর পালটা তোপ, 'ঝুট হ্যায়। পাঁচ বস্তা বই পাঠিয়েছিলাম দিল্লিকে। বাংলাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা আপনারা দেননি। আমরা দাবি করেছি। রিসার্চ টিম তৈরি করেছিলাম। আপনারা বাংলায় কথা বললে মানুষকে মারেন'।

    এদিন সিঙ্গুরের জনসভা থেকে ১৬৯৪টি প্রকল্প ও পরিষেবার উদ্বোধন এবং শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘এক কোটি বাংলার বাড়ি আগেই হয়েছে। কিছু দিন আগে ১২ লক্ষ বাড়ি দিয়েছি। দিল্লি এক টাকা দেয়নি। এই দু’মাসে ৩২ লক্ষ বাড়ির টাকা দেওয়া হবে। টাকা ঢুকলেই বাড়ির জন্য ইট পুঁতবেন। চাই না, কেউ কষ্টে থাকুন। মাথার ছাদ থাকুক সকলের'। 

    দশ বছর পার। সাল ২০০৬। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তখন রাজ্যে ক্ষমতায় বামেরা। স্লোগান উঠেছিল, 'কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ'। সিঙ্গুরের টাটাদের ন্যানো কারখানা তৈরির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবল আন্দোলনের মুখে একলাখি গাড়ির কারখানা চলে গিয়েছিল গুজরাটে। এরপর ২০১১ সালে রাজ্য় পালাবদল। প্রথমবার কুর্সিতে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।

    ছাব্বিশে ভোটের মুখে সেই সিঙ্গুরে জনসভা করে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কবে? ১৮ জানুয়ারি। অনেকেই আশা করেছিলেন যে, সিঙ্গুর থেকে থেকে হয়তো শিল্প নিয়ে বার্তা দেবেন তিনি। কিন্তু কোথায় কী! মোদী সাফ জানিয়ে দেন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক থাকলেই তবেই বিনিয়োগ আসবে। এখানে সবকিছুতেই সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসিয়ে রাখা হয়েছে। এবার পালটা সভা করলেন মুখ্য়মন্ত্রী।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)