কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: বাঙালি অস্মিতার পাল্টা বাঙালির হৃত গৌরব ফেরানোর লড়াই! ২১-এর হারের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে নিয়েই সাজানো হচ্ছে ছাব্বিশের রণকৌশল। তৃণমূলের প্রচারে ম্যান মার্কিংয়ের নিদান নতুন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতির। নীতিন নবীনের দাওয়াই, বিধানসভা ভোটকে মাথায় রেখে স্থানীয় সমস্যাকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ভোটার বৈচিত্র্যের কথা মাথায় রেখেই জেলাভিত্তিক বা বিধানসভা ভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে। প্রতি ১৫ দিনে সংগঠনের রিপোর্ট নেবেন সর্বভারতীয় সভাপতি। দুর্গাপুরের আইটিসি ফরচুন হোটেলে বিজেপির কোর কমিটি বৈঠক সূত্রে এমনটাই খবর। রাতে কোর কমিটির বৈঠকের পর বুধবার সকালে দূর্গাপুর ভিরিঙ্গী শ্মশান কালীমন্দিরে পুজো দেন নীতিন নবীন। তারপর দূর্গাপুরের চিত্রালয় মাঠে, যেখানে কমল মেলা চলছে, সেখানে বর্ধমান জোনের বৈঠক। দুপুরে রানিগঞ্জে আসানসোল জোনকে নিয়ে পৃথক বৈঠক।
সূত্রের খবর, সংগঠন বৃদ্ধি নিয়েই মূলত আলোচনা হয় কোর কমিটির বৈঠকে। যেখানে যেখানে সংগঠন দুর্বল বিশেষত কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, সেখানে আগামী এক মাসের মধ্যে সংগঠন ঢেলে সাজাতে হোম টাস্ক দিয়েছেন নীতিন নবীন। মহিলা ও যুবদের নিয়েও আলাদা করে কথা হয়েছে কোর কমিটির বৈঠকে। যুব এবং মহিলাদের মাথায় রেখে আরাজনৈতিক জন সংযোগ কর্মসূচি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
বাংলায় জয় নিশ্চিত করতে নিচু তলায় সংগঠনের দুর্বলতা ও জনসংযোগের ঘাটতি কাটাতে হবে বলে কোর কমিটির বৈঠকে রাজ্য নেতৃত্বকে বার্তা দেন নীতিন নবীন। ছাব্বিশের রণকৌশল তৈরির বৈঠকে বারবার উঠে আসে ২১ ও ২৪ সালের হারের 'ময়নাতদন্তের রিপোর্ট'। বিজেপি সূত্রের খবর, তৃণমূলের বাঙালি অস্মিতার পাল্টা বাঙালির হৃত গৌরবকে ফেরানোর লড়াইকে সামনে রেখেই ছাব্বিশে ময়দানে নামতে চাইছে বিজেপি। মঙ্গলবারের বৈঠক থেকে রাজ্যে বিজেপির সংগঠন বাড়াতে একাধিক টাস্ক সময় বেঁধে দেন নীতিন নবীন।
বৈঠক প্রসঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে দল ১০০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী। বিজেপি এমন একটি রাজনৈতিক দল নয় যারা শুধুমাত্র ভোটের সময় সক্রিয় থাকে। বরং বছরের ৩৬৫ দিনই বিজেপি মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে। দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলি গোপনীয় হলেও তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। রাজ্যজুড়ে বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব সংগঠন ও কৌশলগত প্রস্তুতিতে জোর দিচ্ছে।