জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বুধবার সকালে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল মহারাষ্ট্রের বারামতী (Baramati Plane Crash)। ল্যান্ডিং করার ঠিক আগের মুহূর্তে আছড়ে পড়ে আগুন ধরে যায় একটি বেসরকারি চার্টার্ড বিমানে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar death due to Plane Crash)। বিমানে থাকা দুই পাইলট এবং নিরাপত্তারক্ষীসহ মোট ৬ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের (CM Mamata Banerjee seeks CBI probe on Ajit Pawar plane Crash Incident) নজরদারিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধারকাজ
বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। মুম্বই থেকে ‘লিয়ারজেট ৪৫’ মডেলের একটি চার্টার্ড বিমানে চড়ে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন অজিত পাওয়ার। সকাল ১১টায় সেখানে জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে তাঁর একটি জনসভা হওয়ার কথা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানটি যখন বারামতী বিমানবন্দরের রানওয়ের দিকে আসছিল, ঠিক তখনই বিপত্তি ঘটে। রানওয়ে ছোঁয়ার মাত্র ১০০ ফুট আগে আচমকা পাশের একটি মাঠে আছড়ে পড়ে বিমানটি।
মাটিতে আছড়ে পড়ামাত্রই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দারা সাহায্যের জন্য ছুটে গেলেও আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে কাছে যাওয়ার উপায় ছিল না। দমকল ও পুলিস আসার আগেই বিমানটি ভস্মীভূত হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ডিজিসিএ (DGCA)-র তথ্য অনুযায়ী, বিমানে থাকা অজিত পাওয়ার, তাঁর পিএসও বিদীপ যাদব, পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত কাপুর, সহ-পাইলট ক্যাপ্টেন সম্ভাবী পাঠক এবং ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট পিঙ্কি মালির ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় শোকপ্রকাশের পাশাপাশি তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে শোকবার্তায় তিনি লেখেন, 'অজিত পাওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর পরিবার ও বিশেষ করে কাকা শরদ পাওয়ারের প্রতি আমার সমবেদনা।'
তবে শোকপ্রকাশের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের সুর শোনা যায়। তিনি বলেন:
এই লিংকে ক্লিক করে দেখুন- https://youtube.com/shorts/Ps9EvHJnOqY?si=rJycUaVObWjB6gfm
তদন্তের দাবি: 'এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত হওয়া উচিত।'
নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়: মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তার ওপর ভরসা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এনসিপি সংযুক্তি নিয়ে ইঙ্গিত: এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে মমতা বলেন, 'রাজনৈতিক মহলে এমন আলোচনা ছিল যে দুই এনসিপি (অজিত ও শরদ গোষ্ঠী) আবার এক হতে পারত। সেই আবহে এমন দুর্ঘটনা রহস্যজনক।'
শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক মহল
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁকে ‘গণমানুষের নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, 'অজিত পাওয়ারজি মহারাষ্ট্রের মানুষের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। প্রশাসনিক কাজে তাঁর দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র ছিল অতুলনীয়। তাঁর এই অকাল প্রয়াণ দেশের রাজনীতির জন্য এক বড় ক্ষতি।' বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিংও এই ঘটনাকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে বর্ণনা করেছেন।
পরিবারের শোক ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বারামতীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সুনেত্রা পাওয়ার ও পার্থ পাওয়ার। উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার সময় সুপ্রিয়া ও সুনেত্রা পাওয়ার একটি কনভেনশনে যোগ দিতে দিল্লিতে ছিলেন।
রহস্য ও প্রশ্নচিহ্ন
বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন। যদিও প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী খারাপ আবহাওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে, তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—টেক-অফের সময় বা মাঝ আকাশে কোনও সমস্যা না থাকলে, ল্যান্ডিংয়ের ঠিক আগে কেন এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটল? কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত শুরু করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সুপ্রিম নজরদারি’র দাবি এই ইস্যুটিকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
মহারাষ্ট্রের এক দাপুটে জননেতার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক বিদায় ভারতীয় রাজনীতির একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটাল।