আছড়ে পড়ার আগে একবার অবতরণের চেষ্টা করেছিল মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের ফ্লাইট। কিন্তু রানওয়ে দেখতে সমস্যা হচ্ছিল পাইলটের। ফলে ‘গো অ্যারাউন্ড’ অর্থাৎ ফের উড়তে শুরু করে বিমান। দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময়ে ভেঙে পড়ে ফ্লাইট। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে গোটা বিমান। মৃত্যু হয় অজিত পাওয়ার-সহ পাঁচ জনের। DGCA সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। কিন্তু গোলমাল বেঁধেছে একটা জায়গায়।
ঠিক কী ভাবে ভেঙে পড়েছিল পাওয়ারের বিমান? তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানিয়েছে DGCA। দুর্ঘটনার আগে পাইলট ‘মে ডে কল’ বা বিমান যে বিপদে পড়েছে এমন কোনও সংকেত পাঠাননি। তবে দুর্ঘটনার পরে খবরে জানা গিয়েছিল, মে ডে কল করেছিলেন পাইলট। পাইলট ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্সের রিডব্যাক দেননি বলেও জানানো হয়েছে। এই নিয়েই বেঁধেছে গন্ডগোল। এমন কেন হবে? পাইলট হঠাৎ চুপ করে গেলেন কেন?
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে পাইলটকে বিমান অবতরণের অনুমতি দেওয়া হলে, নিয়ম অনুযায়ী সেই নির্দেশ পাইলটকে নিশ্চিত করতে হয়। এটাকেই রিডব্যাক প্রক্রিয়া বলে। কিন্তু অজিত পাওয়ারের ফ্লাইটের পাইলট কোনও রিডব্যাক দেননি।
বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই থেকে রওনা দেয় পাওয়ারের ফ্লাইট। সামনেই জেলা পরিষদের নির্বাচন। তারই প্রচারে বারামতী যাচ্ছিলেন অজিত। এ দিন চারটি সভা করার কথা ছিল তাঁর। পাওয়ারের ফ্লাইটের পাইলট সম্ভাবী পাঠক পুনে বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সকাল ৮টা ১১মিনিটে। মুম্বই থেকে বারামতীর দূরত্ব ২৫৬ কিলোমিটার। ফ্লাইটে ৪৫ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়ার কথা।
পাওয়ারের ফ্লাইট তখন বারামতী বিমানবন্দর থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইল বা ৫৫.৬ কিলোমিটার দূরে, সেই সময়ে দ্বিতীয়বার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পাইলট সম্ভাবী পাঠক। এর পরে পুনে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল তাঁকে আবহাওয়া, বাতাসের গতি এবং দৃশ্যমানতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়। সেই সময়ে ৩০০০ মিটার অর্থাৎ তিন কিলোমিটার পর্যন্ত রানওয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। সোজা কথায়, অবতরণে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
অবতরণের প্রস্তুতি শুরু করেন পাইলট। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে তিনি জানিয়ে দেন, রানওয়ে ১১-তে অবতরণ করছেন তিনি। তার ঠিক পরেই সম্ভাবী বলেন, ‘রানওয়ে দেখতে পাচ্ছি না।’ সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ‘গো অ্যারাউন্ড’ করতে বলা হয়। অর্থাৎ অবতরণ না করে আকাশেই চক্কর কাটতে শুরু করেন তিনি। এটাই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর। গো অ্যারাউন্ডের পরে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে ফের বিমানের অবস্থান জানতে চাওয়া হয় সম্ভাবীর কাছে। সেই সময়ে ফের তিনি অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
এ বার রানওয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কোনও অসুবিধা নেই। ঘড়িতে তখন ৮টা ৩৪ মিনিট। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয় পাইলটকে। কিন্তু আচমকাই চুপ করে যান পাইলট। ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্সের কোনও রিডব্যাক দেননি তিনি। বিমান থেকে আর কোনও সিগন্যালও পাঠানো হয়নি বলে জানিয়েছে DGCA।
পাওয়ারের ফ্লাইট তখন বারামতী বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। এক কিলোমিটারের একটু বেশি উচ্চতা দিয়ে উড়ে চলেছে। গতি ঘণ্টায় ২৩৭ কিলোমিটার। ফ্লাইটের সব সিগন্যাল আচমকাই বন্ধ হয়ে গেল।
জাতীয় সড়কের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বিমানের শেষ মুহূর্তের ফুটেজ। ঘড়িতে তখন ৮টা ৪৬ মিনিট ২ সেকেন্ড। বিমানবন্দরে রানওয়ে ১১-র ধারে আছড়ে পড়ল ফ্লাইট। সঙ্গে সঙ্গে যেন আগুনের বিস্ফোরণ হলো। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল চারপাশ। লিয়ারজেট ৪৫ মডেল-এর ‘ভিটি-এসএসকে’ বিমানে অজিতের সঙ্গে তাঁর এক নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। ছিলেন বিমানের দুই পাইলট এবং এক বিমানকর্মীও। প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয়েছে।