• ‘বিমান দুর্ঘটনা হলে তো মালিককে ধরা হয় না’, কোর্টে যুক্তি গোডাউন মালিক গঙ্গাধরের
    এই সময় | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • আনন্দপুরের নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধৃত গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে পাঠাল আদালত। তবে বুধবার গঙ্গাধরকে আদালতে তোলা হলে সওয়াল-জবাব পর্বে সরগরম হয় বারুইপুর মহকুমা আদালত কক্ষ। বছর ১৩ আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতার অদূরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার খেয়াদহ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদ এলাকায় কারখানা ও গোডাউন করেন গঙ্গাধর। তারই একটি গোডাউনে রবিবার রাতে আগুন লাগে, বুধবার অবধি ১৬ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও বহু জন নিখোঁজ। যদিও এ দিন বারুইপুর মহকুমা আদালতে দাঁড়িয়ে গঙ্গাধরের হয়ে তাঁর আইনজীবী সওয়াল করেন, ‘ভাড়াটিয়ার কাজে আমার মক্কেলের কোনও ভূমিকা নেই।’ আইনজীবী আরও যুক্তি দেন, কোনও বিমান দুর্ঘটনা ঘটলে বিমান সংস্থা বা বিমানের মালিককে তো গ্রেপ্তার করা হয় না। সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সম্পত্তি ভাড়া দেওয়ার কারণে কী ভাবে মালিক দায়ী হতে পারেন? যে কোনও শর্তে জামিন দেওয়ার আবেদন জানিয়ে প্রয়োজনে পাসপোর্ট জমা রাখার কথাও বলা হয়।

    এ দিন আদালতে সওয়াল-জবাব ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযুক্তের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে গঙ্গাধরের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেলের বয়স ৭০-এর বেশি। নানা শারীরিক সমস্যা রয়েছে। ৫০০-৬০০ জন তাঁর সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর স্কুল, কলেজের কথাও বলা হয় আদালতে।

    এ দিন গঙ্গাধরের আইনজীবী আদালতে জানান, ২০১৬ সাল থেকে তাঁর মক্কেল এর বৈধ ‘হোল্ডার’ হলেও ২০২৩ থেকে সেটি ভাড়া দেওয়া হয়। ভাড়ার চুক্তিতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ ছিল, সেখানে কোনও বিপজ্জনক বা দাহ্য পদার্থ মজুত করা যাবে না। কিন্তু ভাড়াটিয়া তা করেছেন বলে এই দুর্ঘটনা। এখানে গঙ্গাধরের কোনও ভূমিকা নেই। ভাড়াটিয়া সেখানে কী করছিল, সে বিষয়ে মালিক পক্ষের কোনও হস্তক্ষেপ ছিল না বলেও আদালতে জানানো হয়।

    এ ছাড়াও আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, কী ভাবে একসঙ্গে ‘অনিচ্ছাকৃত খুন’ ও ‘খুনের চেষ্টা’—এই দুই ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। রিমান্ড আবেদনে অভিযুক্তকে পলাতক বলা হয়েছে বলেও আপত্তি তোলা হয়। দাবি করা হয়, পুলিশ আগের দিন ফোন করেই পূর্ব মেদিনীপুরের ভেড়িয়া থেকে অভিযুক্তকে ডেকে এনেছিল। প্রয়োজনে পুলিশ ও অভিযুক্তের টাওয়ার লোকেশন যাচাই করার আর্জিও জানানো হয়।

    আইনজীবী আরও যুক্তি দেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটলেও বিমান সংস্থা বা বিমানের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কেন এ ক্ষেত্রে অন্য কিছু হবে? যদিও সরকারি কৌঁসুলি জানান, সেখানে দু’টি সংস্থা কাজ করছিল। একটি সংস্থার গুদামের দায়িত্বে ছিলেন অভিযুক্ত নিজে এবং অন্যটি ছিল অন্য একজনের হাতে। সেখানে এলপিজি সিলিন্ডার, কাপড় ও একাধিক দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। মালিক হিসেবে কর্মীরা সেখানে কাজ করার সময়ে কী ভাবে এমন বিপজ্জনক সামগ্রী রাখা ছিল—তার দায় এড়ানো যায় না বলেই দাবি করেন তিনি।

    সত্যি অনুসন্ধানে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পরে আদালত ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়।

  • Link to this news (এই সময়)