অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। তবে এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই প্রেক্ষিতে মুখ খুললেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। এই বিষয়ে রাজনীতি না করার কড়া বার্তা দিলেন তিনি। একই সঙ্গে দাবি করলেন এই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করাটা প্রয়াত অজিত পাওয়ারের পরিবারের জন্য ‘বেদনাদায়ক’।
একনাথ শিন্ডে বলেছেন, ‘এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার সময়ে রাজনীতি করা একেবারেই অনুচিত। বাইরে থেকে কেউ এসে যদি অভিযোগ করেন এবং ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খাড়া করেন, তবে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’
তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, অজিত পাওয়ারের কাকা তথা NCP-SCP সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার স্বয়ং জানিয়েছেন এটি নিছক দুর্ঘটনা এবং এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র নেই। শিন্ডের কথায়, ‘যখন পরিবারের প্রবীণ সদস্য নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তখন সন্দেহের বীজ বপন করা মহারাষ্ট্রের মানুষ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য বেদনাদায়ক।’
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এ দিন সকালে অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার খবর জানাজানি হতেই গভীর শোক প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘কোনও এজেন্সির উপরে আমার ভরসা নেই, তাই সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত চাই।’
মমতার এই দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করে শিন্ডে বলেছেন, ‘রাজনীতি করার অনেক সময় ও সুযোগ পাওয়া যাবে। কিন্তু আজ মহারাষ্ট্র শোকে মুহ্যমান। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁদের প্রিয় ‘অজিত দাদা’-কে শেষ বিদায় জানাতে এসেছেন। এই সময়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা অত্যন্ত হীন কাজ।’
অবশ্য এই দুর্ঘটনার যথাযথ তদন্ত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন শিন্ডে। তবে তিনি বারবারই জোর দিয়েছেন, এই মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে যেন কোনও অনভিপ্রেত বিতর্ক সৃষ্টি না করা হয়।