‘প্লে ব্যাক’ চালিয়ে যেতে হবে ‘অরিজিৎদা’কে, উঠল দাবি
আজকাল | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘প্লেব্যাক’ করা ছেড়ো না অরিজিৎ! আজ যেন গোটা ভারতবর্ষের একটাই আর্তি। তবে কেউ জানে না এই আর্তি অরিজিতের কানে আদতেও পৌঁছবে কি না।
মঙ্গলবার রাতে হঠাৎই নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় বিশ্ববন্দিত গায়ক অরিজিৎ সিং ঘোষণা করেছেন আর তিনি নতুন করে ‘প্লেব্যাক’ গানের নতুন কোনও ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ নিয়ে কাজ করবেন না।
নিজের হৃদয় নিংড়ে দিয়ে গোটা ভারতবর্ষকে ভালবাসার এবং বেদনার যে গান এতদিন অরিজিৎ মানুষকে শুনিয়ে এসেছেন সেই গান আর শুনতে না পাওয়ার ‘আশঙ্কা’ গ্রাস করেছে তাঁর গুণমুগ্ধ শ্রোতাদেরকে। আর সেই কারণেই যে যেমন করে পারছেন নিজের বার্তা অরিজিতের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছেন। সকলে আবার অরিজিতের কাছ থেকে শুনতে চান ‘ঢলতি রাত কা এক সিতারা হুঁ’র মত মন ছুঁয়ে যাওয়া আরও বহু গান।
মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ শহরে রয়েছে অরিজিৎ সিংয়ের পারিবারিক রেস্তোরাঁ ‘হেঁশেল’। অরিজিতকে ‘হেঁশেল’-এ খুব কম দেখা গেলেও জিয়াগঞ্জ শহরের বাসিন্দাদের কাছে এই রেস্তোরাঁ পরিচিতি এটি তাঁদের পাড়ার ছেলে ‘সমু’র হোটেল। দেশ বিদেশ থেকে অরিজিতের বাড়ি যাঁরা দেখতে আসেন তাঁরাও একবার ঢুঁ মেরে যান বিখ্যাত গায়কের পারিবারিক রেস্তোরাঁয়। বুধবার অরিজিতের পারিবারিক রেস্তোরাঁয় যাঁরা খেতে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই দাবি জানিয়ে গেলেন অরিজিৎ যেন ‘প্লেব্যাক’ গান না ছাড়েন।
মফঃস্বলের ছেলে অরিজিৎ নিজের পারিবারিক রেস্তোরাঁয় সমস্ত পড়ুয়ারা যাতে কম দামে ভাল খাবার খেতে পারেন সেই ব্যবস্থাও কিন্তু করে রেখেছেন। অরিজিতের রেস্তোরায় খেতে এসে আজ বহু ছাত্র দাবি জানালেন, তাঁদের প্রিয় অরিজিৎদা যেন ‘প্লেব্যাক’ করা চালিয়ে যান।
কিরণ বিশ্বাস নামে রেস্তোরাঁর এক কর্মী জানান, “সাধারণ লোকেদের জন্য এখানে নিরামিষ থলির দাম ৮০ টাকা কিন্তু ছাত্রদের জন্য এখানে ৪০ টাকায় ‘ভেজ থালি’ পাওয়া যায়।" তিনি আরও বলেন, “আমি অরিজিৎ সিংয়ের গানের ‘ডাই হার্ড’ ফ্যান। আমি চাই তাঁর গান যেন থেমে না থাকে। অরিজিৎদা যেন ‘প্লেব্যাক’ গানটাও আমাদের মত ভক্তের কথা ভেবে চালিয়ে যান।”
অরিজিতের পারিবারিক রেস্তোরায় প্রায় নিয়মিত খেতে আসেন স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্র কৌশিক সিংহ। তিনি বলেন, “এখানে ছাত্রছাত্রীদের মাত্র ৪০ টাকায় নিরামিষ থালি দেওয়া হয়। প্রতিদিনই খাবারের মেনুতে থাকে বিভিন্ন ধরনের পদ।” ওই ছাত্র বলেন, “তবে অরিজিৎ সিংয়ের রেস্তোরাঁয় কম দামে খাবার খাওয়ার জন্য যেমন আসি তেমনি অরিজিৎদার গান ভাল লাগে বলেও তাঁর পরিবারের রেস্তোরাঁতে আমরা অনেকেই খেতে আসি। আমরা সকলে চাই তিনি যেন আগের মতই ‘প্লেব্যাক’ গান করা চালিয়ে যান।” স্থানীয় অন্য একটি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র সুকান্ত পাল বলেন, “আজই আমি অরিজিৎদার পরিবারের রেস্তোরাঁ থেকে মাত্র ৪০ টাকা দিয়ে একটা ‘ভেজ থালি’ খেয়েছি। অরিজিতদার গান যেমন সুন্দর তেমনই তাঁদের পারিবারিক রেস্তোরাঁর খাবারও সুন্দর। আমিও অরিজিতদার কাছে দাবি রাখছি তিনি যেন ‘প্লেব্যাক’ গান চালিয়ে যান।”