মিল্টন সেন, হুগলি: সিঙ্গুরের সমাবেশ থেকে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বুধবার ভার্চুয়ালি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মমতা। বন্যাকবলিত ঘাটাল ও তার সংলগ্ন ৮০১ বর্গ কিলোমিটার এলাকার মানুষের দুর্দশা নিরসনে রাজ্যের ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেচ ও জলপথ বিভাগের উদ্যোগে কার্যকর হবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রকল্প। ইতিমধ্যেই রাজ্যের তরফে এই প্রকল্পে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৩৪১.৩৯ টাকা খরচ করা হয়েছে।
বুধবার সিঙ্গুরের সমাবেশ থেকে মমতা বলেছেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে দেব আমাকে বারবার বলতো। যখনই বন্যা হয়েছে ছুটে গেছি ঘাটালে। ওই জল ডিভিসি থেকে এসে আরামবাগ, খনাকুল, ঘাটাল, হাওড়া ভাসিয়ে দিত। ১০ বছর ধরে কেন্দ্রের সরকারকে চিঠি লিখেছি। সমস্যার কথা জানিয়েছি। ওরা কোনও উত্তর দেয়নি। তাই আমরা ঠিক করেছি, নয় বা দিল কেন্দ্র টাকা। ওরা দেয় শুধু ধোকা। আমরা ১৫০০ কোটি টাকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু করে দিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “পাঁচশো কোটি টাকা দেওয়া হয় গেছে। ইতিমধ্যেই তিনশো কোটি টাকার কাজ হয়ে গেছে। বাদবাকি কাজও হয়ে যাবে। তাতে কেশপুর বলুন, ডেবরা বলুন, ঘাটাল বলুন, দাদপুর বলুন, পূর্ব মেদিনীপুরের চারটি জায়গার মানুষ উপকৃত হবেন। হাওড়া-হুগলির জন্যও নিম্ন দামোদর অববাহিকা এলাকার প্রজেক্ট হচ্ছে, তাতে হাওড়া,হুগলি,বীরভূম,বাঁকুড়ার মানুষ উপকৃত হবেন।”
এই প্রসঙ্গে সাংসদ দেব বলেছেন, ২০১৪ থেকে তিনি সাংসদ। টানা এতগুলো বছর তিনি সাংসদ রয়েছেন, আজকের দিনটা তাঁর কাছে সবথেকে বড় এবং বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এদিন যে কাজটা মুখ্যমন্ত্রী করলেন, তাতে ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করলেন। প্রথম থেকেই তাঁর চাহিদা ছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের। এটা নিয়ে দিল্লিতেও একাধিকবার দরবার করা হয়েছে, কোনও কাজ হয়নি। কেউ কথা রাখেনি।
দেব আরও বলেন, “২০২৪ নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের রাজ্য বিধানসভা বাজেটে তিনি ৫০০ কোটি টাকা এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করেন। এদিন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন হল। তিনি কথা রেখেছেন।” ঘাটালের প্রত্যেকের তরফে তিনি মুখ্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সাংসদ দেব।