ভাস্কর বিশ্বাস হাওড়া: এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুনানিতে হাজিরা দিতে বাপের বাড়ি যাওয়ার পথেই সব শেষ। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন একই পরিবারের তিন সদস্য। বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ উলুবেড়িয়া চেকপোস্টের কাছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বাবা, সাত বছরের পুত্র এবং চার বছরের কন্যার। বর্তমানে কলকাতার একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন মা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম শেখ সিরাজ (৩৫)। তিনি তাঁর স্ত্রী সামিনা বেগম এবং দুই সন্তান শেখ রিয়াজ (৭) ও সঞ্জনা খাতুনকে (৪) নিয়ে মোটরসাইকেলে করে সাঁকরাইলের বানিপুর থেকে বাগনানের হাটুরিয়ায় যাচ্ছিলেন। সামিনার বাপের বাড়িতে একটি এসআইআর শুনানিতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের।
উলুবেড়িয়া চেকপোস্টের কাছে একটি দ্রুতগামী চারচাকার প্রাইভেট গাড়ি আচমকা তাঁদের বাইকের সামনে চলে আসে এবং পাশে চাপ দেয়। গাড়িটিকে পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান সিরাজ। তাঁদের বাইকটি সজোরে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারে। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা শেখ সিরাজ এবং তাঁর দুই সন্তান রিয়াজ ও সঞ্জনাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্ত্রী সামিনা বেগম ওরফে জ্যোৎস্নার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
পুলিশি তৎপরতা:
ঘটনার খবর পেয়েই পৌঁছয় উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ। পুলিশ ঘাতক প্রাইভেট গাড়ি এবং ট্রাকটিকে আটক করেছে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই পরিবারের তিনজনের অকাল মৃত্যুতে বাগনান ও সাঁকরাইল এলাকায় শোকের ছায়া। বারবার কেন জাতীয় সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। জাতীয় সড়কের ওপর নিরাপত্তা এবং বেপরোয়া গতি নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।