আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গিয়েছে অনেক শ্রমিকের। ২৬ জানুয়ারি রাতে আগুন লাগলেও ঘটনাস্থলে প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরে যান রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। যা নিয়ে বিজেপির আক্রমণের মুখে পড়েন তিনি। কিন্তু এখনও সেখানে যাননি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। কেন? তার কারণ জানালেন নিজেই।
তাঁর দাবি, আনন্দপুরে অনেকের প্রাণ গিয়েছে। নিখোঁজ বহু শ্রমিক। সেজন্য এখন উদ্ধারকার্য ভালোভাবে সম্পন্ন হওয়া সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ও তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা গেলে উদ্ধারকাজে বাধা আসতে পারত। সেজন্য যাননি। তবে বৃহস্পতিবার তিনি যাবেন। মিছিলও করবেন।
শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, 'বৃহস্পতিবার বিরোধী দলনেতার নেতৃত্বে বিজেপির বিধায়ক ও কর্মীরা ওই এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলতে যাবেন। এত দেরি করে যাচ্ছি, কারণ যে সব মানুষ মারা গিয়েছেন তাঁদের আগে যথাযথভাবে উদ্ধারকার্য সম্পন্ন হোক। আমরা গেলে সেই কাজে বাধা পড়তে পারত। আমাদের বিধায়ক অশোক দিন্দা গিয়েছিলেন। কাল আমরা প্রতিবাদ মিছিল করে নরেন্দ্রপুর থানায় যাব। তারপরও যদি পুলিশ পদক্ষেপ না করে তাহলে নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রয়োজনে সচিবালয়ে যাব। আমার তরফ থেকে যা করার করব।'
আনন্দপুরের সেই ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও না যাওয়ায় তাঁর সমালোচনা করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, নিহত শ্রমিকরা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক নয়, সেজন্য সেখানে যাননি মমতা। বলেন, 'রাজ্য সরকার চোখ বন্ধ করে আছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরে এই ঘটনা ঘটলেও তিনি যাননি। অথচ আনন্দ উৎসবে সামিল হয়েছেন। আনন্দপুরে যাননি, নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াননি। আমাদের মনে হয়েছে, যাঁরা মারা গিয়েছেন তাঁরা তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক নয়। সেজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে নূন্যতম সৌজন্য দেখাননি। প্রথম দিন থেকে সোনারপুর ও যাদবপুরের বিজেপির কর্মীরা নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।'
শুভেন্দুর আরও দাবি স্থানীয় বিধায়ক, পুরসভার কাউন্সিলর, পুলিশ ও শাসকদলের নেতাদের গাফিলতি ও যোগসাজশের কারণে এত বড় দুর্ঘটনা। জলা জমি ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে। তার দায় অস্বীকার করতে পারবে না তৃণমূল। দমকলের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী সুজ বসুকেও আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, 'আমরা মনে করি এই দুর্ঘটনার সঙ্গে দুর্নীতি জড়িত। স্থানীয় বিধায়ক, থানা, পুরসভা ও অগণিত কারখানার মালিকের যোগসাজস রয়েছে। সেজন্য ওই রকম একটা জলাজমিতে বেআইনিভাবে নির্মান গড়ে তোলা হয়েছিল। অগ্নি নির্বাপণের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। এত বড় ঘটনার পরও সরকার শিক্ষা নেয়নি। দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করছি। তিনি ও তাঁর দফতর দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। সেজন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। স্থানীয় কাউন্সিলর, বিধায়ক ও পুর প্রতিনিধিদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।'
রবিবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের নাজিরাবাদের একটি মোমো কোম্পানির গুদামে আগুন লেগে যায়। পাশাপাশি অবস্থিত দু’টি গুদামে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, এই অগ্নিকাণ্ডে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ অনেকে। তবে সরকারের তরফে সংখ্যা নিয়ে কোনও কথা বলা হয়নি।