• বিজেপির কমল মেলা বাড়াল বিড়ম্বনা! রবীন্দ্রনাথ নোবেল পেয়েছেন শান্তিতে, ফিরোজা বেগম আসলে স্বাধীনতা সংগ্রামী কমলা দাশগুপ্ত...
    ২৪ ঘন্টা | ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শচীন্দ্রনাথ সান্যাল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন আবার বললেন, 'নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’! 'বিজেপি পার্টিতে শিক্ষার বড় অভাব', পালটা কটাক্ষ তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের।

    বিজেপিতে 'নবীন' যুগ। দলের সর্বোচ্চ পদে বসেই ২ দিনের সফরে বাংলায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। আজ, বুধবার সভা করলেন দুর্গাপুরে। আর সেই সভাতেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিতিন নবীন বলেন, 'দেশ তথা গোটা বিশ্বকে শিক্ষায় নতুন দিশা দেযিয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরজিকে স্মরণ করছি। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি'। শুধু তাই নয়, সভা শেষে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি মুখে শোনা গেল 'জয় বাংলা' স্লোগানও!

    তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের কটাক্ষ, 'যিনি এসেছেন, তার নাম কেউ শোনেনি। চিনত না ২ মাস আগেও। সেই নিতিন নবীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা হচ্ছে স্কুল পাস করেছেন। তারপর আর কোনওদিন কলেজে ঢোকেননি, পড়াশোনাও করেননি। বিজেপির দৌলতে জয় শ্রীরাম বলে এখানে পৌঁছেছেন'। তাঁর সাফ কথা, বিজেপি পার্টিতে শিক্ষার বড় অভাব। বিশেষ করে বাংলার যাঁরা মণীষী, তাদের সম্পর্কে। কেউ বলছেন বঙ্গিমদা, কেউ বলছেন বঙ্কিম দাস, কেউ বলছেন, রবীন্দ্রনাথ সান্য়াল। তার সঙ্গে নতুন যিনি সভাপতি হয়েছেন,তিনি যোগ করলেন রবীন্দ্রনাথ শাস্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। কী বলবেন বলুন তো, তারপরে বলছেন বাঙালির ভোট চাই'।

    এদিকে দুর্গাপুরে 'কমল মেলা'র আয়োজন করেছে বিজেপি। তাতেও বিতর্ক! মেলা প্রাঙ্গণে প্রয়াত নজরুল সংগীত শিল্পী ফিরোজ বেগমের ছবি। কিন্তু নামের জায়গায়  'কমলা দাশগুপ্ত,স্বাধীনতা সংগ্রামী'। ঘটনার নিন্দার ঝড় উঠেছে।

    ভোটমুখী বাংলায় বিজেপি নেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। ডিসেম্বরে বাংলায় এসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে  রবীন্দ্রনাথ সান্যাল বলে উল্লেখ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংসদে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে 'বঙ্কিমদা' বলে সম্বোধন করেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের আপত্তিতে অবশ্য ভুল শুধরে নিয়েছিলেন তিনি।  

    সাংবাদিক সম্মেলনে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খান কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। শেষপর্যন্ত যা বললেন, সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, মোহনবাগান নামটি উচ্চারণ করতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী  মনসুখ মাণ্ডব্য। শেষে বলেন, 'মোহন বেগন'।  আর ইস্টবেঙ্গল হয়ে যায় ‘ইস্ট বেগন’! এক্স হ্যান্ডেল পোস্টে তৃণমূলের কটাক্ষ, 'বাংলার শতাব্দী প্রাচীন ফুটবল ক্লাবগুলির নামও উচ্চারণ করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী। এই ক্লাবগুলির বাংলার প্রতিষ্ঠান। তাই বাংলা বিরোধী শক্তির চোখে অবজ্ঞাযোগ্য'।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)