অরুণিমা চক্রবর্তী: সল্টলেক করুণাময়ী চত্বর এখন ম ম করছে নতুন বইয়ের গন্ধে। নিত্যনতুন বইয়ের উদ্বোধন। চলছে বাংলার দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব- আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। প্রতিদিনই বইমেলায় প্রকাশ পাচ্ছে নতুন লেখক-লেখিকাদের বই। শুধুই পুরনোই নয়। একগুচ্ছ নতুন লেখক, সম্পাদকদের স্বপ্ন ডানা মেলছে নতুন শব্দের মোড়কে, নতুন বইয়ের মলাটে।
বাংলা সাহিত্যে এক বড় অধ্যায় জুড়ে রয়েছে ভূতের গল্প। ছোট থেকে বড় ভূতের গল্প পড়তে ভালবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। ১০টি ভিন্ন স্বাদের হাড়হিম ভূতের গল্পের সম্ভার নিয়ে বইয়ের মোড়কে পাঠকের হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত 'বং ভূতুড়ে' ইউটিউব চ্যানেল। চ্যানেলের কর্ণধার নির্মাল্য দাসের সম্পাদনায় ‘গ্রাম বাংলার ভূত’ গল্পের বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ডটি এবার প্রকাশিত হয়েছে এবারের বইমেলায়।
বইটি পাওয়া যাচ্ছে বঙ্গসাহিত্য কুটির প্রকাশনার ৫৫৫ নং স্টলে। বইটিতে রয়েছে নতুন লেখক-লেখিকাদের স্ব-রচিত ভূতের গল্প। প্রতিটি গল্পের ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে তাঁদের দক্ষতা। পড়তে বসলে গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সন্তু কর্মকার। লেখার জাদুতে আলাদা আলাদা ম্যাজিক দেখিয়েছেন অঙ্কিতা ঘোষ, সঞ্চারী ভট্টাচার্য, সুকান্ত দাস, ঋক প্রসাদ বিশ্বাসের মতো লেখক-লেখিকারা। সহজ ভাষায়, নানা রহস্য ও রোমাঞ্চে ভরপুর এই ভূতের গল্পের বইটি। দ্বিতীয় খণ্ডটির সঙ্গে সংগ্রহ করতে পারেন ‘গ্রাম বাংলার ভূত’ -এর গল্পের বইটির প্রথম খণ্ডটিও। আগের খণ্ডটিতেও কলমের জাদু দেখিয়েছেন সুমেলি কাঞ্জিলাল মুখোপাধ্যায়, অনিন্দিতা নাথের মতো লেখিকারা।
‘গ্রাম বাংলার ভূত’-এর গল্পের বইটির বিশেষত্ব হল প্রতিটি গল্পের শেষে দেওয়া রয়েছে একটি কিউ আর কোড। যা স্ক্যান করলেই আপনাকে সরাসরি পৌঁছে যাবে ইউটিউব চ্যানেলের গল্পটিতে। পড়ার পর অডিও আকারেও শুনে নিতে পারবেন গল্পগুলি। ভালো লাগলে সাবস্ক্রাইব অপশন তো রয়েইছে। সবমিলিয়ে পড়া ও শোনা দুইয়ের জমাটি কম্বিনেশন আপনাকে উপহার দিচ্ছে বং ভুতূড়ে ইউটিউব চ্যানেল। এই ইউটিউব চ্যানেলের কয়েকটি গল্প পাঠে রয়েছেন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী এবং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী- দীপ ও সোমক। যাতে গল্পগুলিতে যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। বং ভূতুড়ের গল্পগুলি পড়ে ও শুনে আপনি নিজের অজান্তে পৌঁছে যাবেন গ্রাম বাংলার এক গা ছমছমে পরিবেশে। জড়িয়ে পড়বেন এক কৌতুহলের মায়াজালে।
২০২১-এর নিজের ব্যক্তিগত জীবনে আচমকাই ছন্দপতন। নানা ঘাত প্রতিঘাত। মানিসক আঘাত আর যন্ত্রণা। আর সেসব থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই নির্মাল্য দাসের। সব প্রতিবন্ধকতা একদিকে ঠেলে রেখে কিছু করে দেখানোর খিদে। আর এই খিদে থেকেই নিজের পরিচয় তৈরি করার লড়াই শুরু করল কলকাতার বেহালার ছেলেটা। বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতোকত্তর করলেও সাহিত্য চর্চা নিয়ে বরারবই আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই ভূতের গল্পকে এক নতুন মোড়কে, নতুন আঙ্গিকে অডিও স্টোরিতে রূপদানের চেষ্টা। রূপদানের মাধ্য়ম হিসেবে ইউটিউবকে বেছে নিল নির্মাল্য।
২০২২-এর ১১ ডিসেম্বর বং ভূতুড়ে ইউটিউব চ্যানেল-এর আত্মপ্রকাশ। সেদিনের বছর ৩২-এর ছেলেটা আজ ৩৫-এ পা দিয়েছে। তিন বছর চলেছে দাঁতে দাঁত চিপে লড়াই। হাল না ছেড়ে চলেছে এগিয়ে চলার চেষ্টা। দিনরাত পরিশ্রম করে চ্যানেলকে একটু একটু করে বড় করে তোলা। আইটি সেক্টরে চাকরির চাপ সামলেও নিজের ভালালাগা-ভালাবাসাকে এক আকাশে মেলে ধরার স্বপ্ন বরাবরই জিইয়ে রেখেছে নির্মাল্য। ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে বছর তিনেক পর এখন বং ভূতুড়ে ইউটিউব চ্যানেলের পরিবার অনেকটাই বড় হয়েছে। তৈরি হয়েছে ফ্যান বেসও। আর এখন তো পাঠক-দর্শকরাও অপেক্ষা করে থাকেন কখন আসবে নতুন গল্প। কখন আবার ভূতের গল্প শোনার নেশায় বুঁদ হবেন।
এভাবেই রোজই ধারে, ভারে, বহরে বাড়ছে বং ভূতুড়ে ইউটিউব চ্যানেল। পাঠক, শ্রোতাদের ভালবাসা থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ডানা মেলার অপেক্ষায়। চ্যানেলের কর্ণধার নির্মাল্য, নবাগত লেখক-লেখিকা ও নেপথ্য শিল্পীদের অক্লান্ত পরিশ্রম মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে গল্পগুলিতে। প্রতিটি গল্পই পাচ্ছে ভিন্ন স্বাদ, ভিন্ন আঙ্গিক। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের আয়নায় ভিতরের আত্মাকে যেন নাড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে প্রতিটি গল্প। সব মিলিয়ে এবারের বইমেলায় নির্মাল্যর সম্পাদনায় গ্রাম বাংলার ভূত-এর দ্বিতীয় খণ্ডটি শুধু প্রকাশই নয়। বরং ভয়ের অনুভূতিতে ডুব দেওয়ার এক বিস্তৃত মাধ্যম।