• রবি ঠাকুর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন বলে অশান্তি ডেকে আনলেন নবীন বিজেপি সভাপতি, শেষে ‘জয় বঙ্গাল’ নিয়েও কটাক্ষ
    আনন্দবাজার | ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • তৃণমূলকে লাগাতার ‘অস্ত্র’ দিয়ে চলেছে বিজেপি। নরেন্দ্র মোদীর বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’, মাস্টারদা সূর্য সেনকে ‘মাস্টার’ সম্বোধনের রেশ এখনও মিলিয়ে যায়নি। অমিত শাহের মুখে ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যায়’ উচ্চারণের প্রতিধ্বনিও জিইয়ে। কিন্তু সে সব নিয়ে সতর্ক হওয়া দূরের কথা, তৃণমূলকে আবার নতুন ‘অস্ত্র’ দিল বিজেপি। এ বার দিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বুধবার দুর্গাপুরে বিজেপির কর্মী সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বললেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন!

    কালক্ষেপ না-করে তা নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূল। নিতিন ভাষণ শেষ করেছেন যে, ‘জয় বঙ্গাল’ (জয় বাংলা) স্লোগান দিয়ে, তা নিয়েও কটাক্ষ শুরু করেছে রাজ্যের শাসকদল। সে প্রসঙ্গে অবশ্য বিজেপি পাল্টা কটাক্ষও করেছে।

    বিজেপি সভাপতি নিতিন বুধবার ভাষণের শুরুর দিকে বাঙালি মনীষীদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপক কিছু কথা বলছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দের কথা বলেন, রামকৃষ্ণ পরমহংসের কথা বলেন। বিজেপির পূর্বসূরি জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথাও বলেন। সে সব ক্ষেত্রে তেমন গোলমেলে কিছু ঘটেনি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই নিতিন গোল বাধান। তিনি বলেন, ‘‘যে কবিগুরু এই রাজ্যকে শুধু নয়, গোটা দেশকে শিক্ষার নতুন পদ্ধতি দিয়েছিলেন, যার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল, সেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও আমি স্মরণ করছি।’’

    রবীন্দ্রনাথ নোবেল পেয়েছিলেন সাহিত্যে। শান্তিতে নয়। বিজেপি সভাপতি তা-ও জানেন না? এই প্রশ্ন তুলে বিস্ময় প্রকাশ করা শুরু করে তৃণমূল। বিজেপি সভাপতির ভাষণের ওই অংশ সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হয়। দলের ফেসবুকে লেখা হয়, ‘‘এই হচ্ছে অপদার্থ বিজেপির অপদার্থ সভাপতি। দায়িত্ব পেয়েই ভুলে ভরা ভাষণ শুরু করে দিয়েছে। আবার বাংলা দখলের দিবাস্বপ্নও দেখছে!’’ তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ দাবি তোলেন, নিতিন নবীনকে ক্ষমা চাইতে হবে।

    পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির বিড়ম্বনার শেষ অবশ্য সেখানেই হয়নি। বিজেপি সভাপতির ভাষণের অন্তিম পর্বকেও নিজেদের ‘হাতিয়ার’ করে তোলার চেষ্টা করেছে তৃণমূল। কারণ, দুর্গাপুরে ভাষণ শেষ করার সময়ে নিতিন প্রথমে বলেন ‘জয় বঙ্গাল’ (জয় বাংলা)। তার পরে বলেন ‘জয় ভারত’। ‘জয় বঙ্গাল’ বলার সেই ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তৃণমূল কটাক্ষ শুরু করে। এ রাজ্যের বিজেপি নেতাকর্মীরা তৃণমূলের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের তীব্র বিরোধিতা করে আসছেন লাগাতার। ওই স্লোগান বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা বলে বিজেপি বরাবর কটাক্ষ করে এসেছে। কিন্তু বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিজেই পশ্চিমবঙ্গে এসে ‘জয় বঙ্গাল’ বলে দিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পুরনো ভাষণের অংশবিশেষ তুলে ধরে বিজেপিকে বিঁধতে শুরু করে তৃণমূল। সে ভাষণে অভিষেক বলেছিলেন, বিজেপি-কে দিয়ে ২০২৬ সালে ‘জয় বাংলা’ বলিয়ে ছাড়বেন! সে চ্যালেঞ্জে অভিষেকের ‘জয় হল’ বলে সমাজমাধ্যমে দাবি করতে শুরু করে তৃণমূল।

    বিজেপি অবশ্য তৃণমূলের আক্রমণের জবাব দিয়েছে। তাদের দাবি, নিতিন নবীন ‘জয় বাংলা’ বলেননি, ‘জয় বেঙ্গল’ বলেছেন। রাজ্য বিজেপির এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূল এবং অভিষেককে কটাক্ষ করে লেখা হয়েছে, ‘জয় বেঙ্গল এবং জয় ভারত নিয়ে তৃণমূলের এবং আঞ্চলিক দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের এত সমস্যা কেন হচ্ছে? আমরা জানি যে, জয় বেঙ্গল এবং জয় বাংলার মধ্যে ফারাকটা বুঝতে তাঁর অসুবিধা হচ্ছে। কিন্তু আমরা ফারাকটা ব্যাখ্যা করে দিচ্ছি।’ সেই ‘ব্যাখ্যা’য় লেখা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গের বৈধ ভোটারদের সঙ্গে তৃণমূলের রক্ষাকর্তা ভুয়ো, অবৈধ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা ভোটারদের যা ফারাক, জয় বেঙ্গল আর জয় বাংলার মধ্যেই সেই একই ফারাক। জয় বাংলা একটা ইসলামিক স্লোগান, আর জয় বেঙ্গলের শিকড় ভারতীয়ত্বে এবং তা পশ্চিমবঙ্গের সংজ্ঞাবাহী।’ সতীদাহ নিবারণে রাজা রামমোহন রায়ের কৃতিত্বের কথা বলতে গিয়ে অভিষেক যে ভুল করেছিলেন, সে প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির তরফ থেকে লেখা হয়েছে, ‘‘যে ভাইপো সতীপ্রথার নিবারণে রাজা রামমোহন রায়ের অবদানটাও জানেন না, তাঁর কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি প্রত্যাশাও করা যায় না।’’

    রবি ঠাকুরের শান্তির নোবেল নিয়ে অবশ্য পাল্টা কোনও ব্যাখ্যা বা আক্রমণ শোনা যায়নি কেন্দ্রের শাসকদলের তরফে।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)